মামলার ‘রানী’ রুজিনা বেগম
বগুড়ার শাজাহানপুরে রুজিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর হাত থেকে রক্ষা পেতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে দেছমা স্ট্যান্ডে এই মানববন্ধন পালন করেন কয়েকশ’ নারী-পুরুষ। রুজিনা বেগম উপজেলার খরণা ইউনিয়নের দেছমা মোন্নাপাড়া গ্রামের লিয়াকত আলীর স্ত্রী।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রামবাসী জানান, রুজিনা বেগম একজন অসৎ প্রকৃতির মামলাবাজ নারী। সমাজে কারও সঙ্গে তার কোনো সুসম্পর্ক নাই। তুচ্ছ ঘটনায় ঝগড়া সৃষ্টি করে একজন নারী হয়েও লাঠিহাতে মারধর করেন। নিজে জমিতে গিয়ে কোদাল দিয়ে অন্যের জমির আইল কেটে ফেলেন।
তারা আরও জানান, জমিজমা নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়ায় লিপ্ত থাকেন। এসব ঘটনায় গ্রাম সালিশ বৈঠকে কেউ কোনো কথা বললে তাদের নামে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। ফলে নিজের সম্মান বাঁচাতে ওই নারীর ভয়ে কেউ কোনো কথা বলেন না। এভাবে নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর এ পর্যন্ত ছয়টি মামলা এবং থানায় অর্ধশতাধিক অভিযোগ চলমান রয়েছে।
আব্দুল বাছেদ নামে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ বরে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে গ্রামের মসজিদের জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক বসেছিল। ওই বৈঠকে চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ স্থানীয় মাতব্বররা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ওই নারী জমিতে গিয়ে জোর করে আইল কাটতে থাকলে আমি গিয়ে বাধা দেই। এজন্য ওই নারী আমার নামে মামলা করেন।’
আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ‘২০ বছর আগে দুই সীমানায় একটি বটগাছ কাটা নিয়ে আমার ভাই রমজান আলীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রোজিনা বেগম। এ ঘটনায় উল্টো তিনি ভাইয়ের নামে মামলা করেন। ওই মামলায় আমরা এখন নিঃস্ব।’
জোবায়ের নামে এক ব্যক্তির অভিযোগ, ‘মাস খানেক আগে আমি পুকুর সেচ দেই। সেচের পানি রোজিনা বেগমের জমিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে এসে মারার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় থানায় বাড়ি ভাঙচুর ও মারধরের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুলিশ নিয়ে আসে। পুলিশ সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের প্রমাণ না পেয়ে ফিরে যায়।’
স্থানীয় মেম্বার আব্দুল মাজেদ বলেন, রুজিনা বেগম একজন ভয়ানক নারী। স্থানীয়ভাবে বহুবার বিচার-সালিশ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি মানেন না। থানা পুলিশ পর্যন্ত ওই নারীর কারণে অতিষ্ঠ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুজিনা বেগম বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ভাগীদারদের সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব। এখন গ্রামের মানুষরাও শত্রুতা শুরু করেছে। সবাই মিলে ষড়যন্ত্র করে আমার পেছনে লেগেছে।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওই নারী প্রায়ই থানায় অভিযোগ করতে আসেন। এরকম অনেক অভিযোগ থানায় জমা রয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা পাঠিয়ে অভিযোগের তদন্ত করে যেগুলোর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে সেগুলোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রামের লোকজন অভিযোগ করলে ওই নারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসজে/এমএস