‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণকে’ স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া বলে দাবি অভিযুক্ত ফিরোজের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৪:৩১ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২২
সংবাদ সম্মেলন করেন ধর্ষণ মামলার আসামি ফিরোজ আহমদ

কক্সবাজার আদালত পাড়া থেকে তুলে নিয়ে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগকে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া বলে দাবি করেছেন প্রধান অভিযুক্ত ফিরোজ আহমদ।

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তরুণীর মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় কক্সবাজার পৌর শহরের বাহারছড়া এলাকার রান্নাঘর রেস্তোরাঁয় তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

ওই তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে ফিরোজ বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়াকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপের স্বার্থ হাসিলের জন্য চার যুবককে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাকে ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওইদিন কক্সবাজার পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে আমাকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করার চেষ্টা করে সে। আমার শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে হেনস্থা করলে পথচারীরা আমাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।’

ফিরোজ বলেন, ‘বাহারছড়া এলাকায় গিয়েও আমার স্ত্রী হেনস্থা করলে বাধ্য হয়ে তাকে নিয়ে পাশেই মামাবাড়িতে ঢুকে পড়ি। ওই সময় মামি আমার স্ত্রীকে থামানোর চেষ্টা করেন। ওই ঘটনাকে আমার স্ত্রী প্রতিপক্ষের লোকজনের যোগসাজশে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা  সাজিয়ে থানায় এজাহার দেয়।’

ফিরোজের দাবি, ‘এজাহারে নাম উল্লেখ করা চারজনের মধ্যে তিনজনের ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই। আসামির তালিকায় থাকা ইসলামপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাজার এলাকার মোহাম্মদ শরীফ আগামী নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তার ইমেজ নষ্ট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে তাকে আসামি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্য দুই আসামি সহোদর রাসেল উদ্দিন ও নুরুল ইসলামও এ ঘটনায় সম্পৃক্ত নয়। বরং তারা ঘটনার সময় নিজেদের বাড়ি থেকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বের হয়। পথে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া দেখে দুজনকেই সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তারা তাদের কাজে চলে যান। আর আমার স্ত্রীকে আমি কেন ধর্ষণ করবো?’

স্বামী-স্ত্রী হলে ঈদগাঁও ছেড়ে কক্সবাজার শহরে এসে কেন ধস্তাধস্তিতে নামলেন এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর না দিয়ে ফিরোজ বলেন, ‘সোমবার (১৪ মার্চ) সকালে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে এসে দ্বিতীয় স্ত্রী কোনো কারণ ছাড়াই ১০ লাখ টাকা দাবি করে হেনস্থা করতে থাকে। পারিবারিক ঘটনা রাস্তায় আসাটাই বিশ্রী হয়েছে।’

এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজের দাবি সম্পর্কে ধর্ষণের মামলা  করা তরুণী বলেন, ‘আমি ফিরোজের বিয়ে করা বউ নই। প্রশাসনকে বোকা বানাতে সবরকম মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারে ফিরোজ। থানা-পুলিশের সঙ্গে দহরম সম্পর্কের জেরে সে পুরো এলাকার অপরাধ ও অপরাধী নিয়ন্ত্রণ করে। এলাকায় সে যেটা চায়, তা-ই হয়। আমি আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়ার পর সে আমাকে রক্ষিতা হিসেবে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি রাজি না হওয়ায় আমার জীবনে একের পর এক অঘটন ঘটাচ্ছে।’

তরুণী আরও বলেন, ‘যারা অভিযুক্ত তাদের সঙ্গে আমার পূর্ব কোনো শত্রুতা নেই। শহরে এত মানুষ থাকতে আমি এ চারজনকে কেন আসামি করলাম? সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজই স্বীকার করেছে রাসেল ও তার ভাই ঘটনাস্থলে ছিল। তাদের বাড়ি আর ঘটনাস্থল এক জায়গায় নয়। তাহলে তারা অলৌকিক ক্ষমতায় সেখানে হাজির হবার হেতু কী? বিয়েতে গেলে প্রধান সড়ক হয়ে যাওয়ার কথা, তারা চিকন গলিতে এলো কী করতে? মূলত শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে ফিরোজরা। আমি ধর্ষণের ন্যায় বিচার চাই।’

ধর্ষণ মামলার আসামির সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, খবর পেয়েই সংবাদ সম্মেলনস্থলে পুলিশ অভিযান চালায়। কিন্তু এর আগেই আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর মঙ্গলবার দিনগত রাতে দুটি টিম নিয়ে মামলার আসামিদের গ্রামের বাড়ি ঈদগাঁওয়ে রাতভর অভিযান চালানো হয়। কিন্তু তারা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় কাউকে ধরা সম্ভব হয়নি। তাদের লোকেশন শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।