চাঁদপুর বিএনপির সভাপতি মানিক সম্পাদক সেলিম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর
প্রকাশিত: ০৮:৪৩ এএম, ০৩ এপ্রিল ২০২২

দীর্ঘ ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো চাঁদপুর জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনে সভাপতি ও সম্পাদক পদে ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধতা পায়। মোট ভোটার ছিলেন ১ হাজার ৫১৫ জন কাউন্সিলর।

যদিও ৭ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনকে সম্মেলন স্থলে দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলরদের ভোটে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সভাপতি ও অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

তবে একই দিন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সভাপতি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক সমর্থিত অপর প্রার্থীরা হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তিতে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করেন। ওই দুই স্থানেও কাউন্সিলররা ভোট দেন বলে জানান সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোস্তফা খান সফরি।

তিনি বলেন, যারা শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সম্মেলনে যাননি তারাই হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তিতে ভোট দিয়েছেন।

এ নির্বাচন কতটুকু গ্রহণযোগ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা কেন্দ্রীয় নেতারা বলতে পারবেন। তবে স্থানীয় সভাপতি ও সেক্রেটারির সিদ্ধান্তে আমরা ভোট নিচ্ছি। ওই দুই কেন্দ্রে হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলার শতকরা ৮০ ভাগ কাউন্সিলর ভোট দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

চাঁদপুরে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে দুপুর আড়াইটায় শুরু হয় ভোটগ্রহণ। বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হয় ভোট গণনা। ১ হাজার ৫১৫ জন ভোটারের মধ্যে ৯৯২ জন ভোট দেন।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুসারে সভাপতি প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ছাতা মার্কায় পেয়েছেন ৯২৭ ভোট ও সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম ৮৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

এছাড়াও নির্বাচনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে সভাপতি পদে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক সাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ ভোট, কামাল চৌধুরী চেয়ার প্রতীকে পেয়েছেন ১১ ভোট। সভাপতি পদে ভোট বাতিল হয়েছে ৩১টি।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দেওয়ান সফিকুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯, মোস্তফা খান সফরী বই প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ ও কাজী গোলাম মোস্তফা আম প্রতীকে পেয়েছেন ১৪টি ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ভোট বাতিল হয়েছে ২২টি।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের নানুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন। এরপূর্বেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতা-কর্মী ও কাউন্সিলররা আসতে শুরু করেন। তবে সম্মেলনে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের অনুসারীদেরকেই দেখা যায়। সভাপতি ও সম্পাদক পদের অন্যান্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, কামাল উদ্দিন চৌধুরী ও মাহবুবুর রহমান শাহিন এবং মোস্তফা খান সফরি ও কাজী গোলাম মোস্তফা ছিলেন অনুপস্থিত। এমনকি তাদের অনুসারী নেতা-কর্মী, সমর্থক ও কাউন্সিলরদেরও সম্মেলন স্থলে দেখা যায়নি।

শাহরাস্তি পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তফা কামাল বলেন, সম্মেলনকে ঘিরে নিজেদের মধ্যে অনৈক্য তৈরি হয়েছে। যারা সম্মেলনকে বানচাল করার জন্য বিভিন্ন স্থানে ভোট বাক্স বসিয়েছেন তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় দলীয় শৃঙ্খলা নষ্ট হবে।

একই উপজেলার পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম ভোটার হতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যারা দুর্দিনে দলের পাশে থেকে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন তাদেরকে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করতে হবে। কোনো সুবিধাভোগীরা যেন স্থান না পায়।

চাঁদপুর শহর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন মাঝি বলেন, কতিপয় দুষ্কৃতকারী দলের ক্ষতি করার চেষ্টায় লিপ্ত। আগামী নেতৃত্বের মাধ্যমে তাদেরকে চিহ্নিত করে উৎখাত করতে হবে। অন্যথায় দলের জন্য তা হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মুনির চৌধুরী ও খলিল গাজীর যৌথ সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইঁয়া।

এছাড়াও সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদুল হক সাঈদ, সাবেক সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রাশেদা বেগম হীরা, বিএনপি নেতা এম এ হান্নান, কেন্দ্রীয় তাঁতি দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

নজরুল ইসলাম আতিক/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।