উপকূলীয় অঞ্চলে জনপ্রিয় হচ্ছে সয়াবিনের নতুন জাত
সয়াবিনের নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন করেছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরকৃবি) কৃষিতত্ত্ব বিভাগ। উদ্ভাবিত জাত দুটি বিইউ সয়াবিন-১ ও বিইউ সয়াবিন-২।
অধিক ফলনশীল, জীবন কাল কম, খাদ্যমান (প্রোটিন ও তেল) বেশি ও লবণাক্ত সহিষ্ণু হওয়ায় জাত দুটি এরই মধ্যে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েকশ’ কৃষকের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
বশেমুরকৃবির জনসংযোগ বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার মো. মজনু মিয়া বলেন, চলতি বছর নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে হাজারো হেক্টর জমিতে ব্যাপকভাবে উন্নত সয়াবিন চাষাবাদ করা হচ্ছে। গত ১৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত জাত দুটির উৎপাদনক্ষমতা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন বশেমুরকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. গিয়াসউদ্দীন মিয়া, উদ্ভাবক কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. আব্দুল করিম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. এ কে এম আমিনুল ইসলাম।

বশেমুরকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. গিয়াসউদ্দীন মিয়া জানান, নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহযোগিতায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্কের সহায়তায় এ দুটি জাতকে বিনা ও বারি উদ্ভাবিত অপর তিনটি জাতের সঙ্গে চাষ করা হয়। সলিডারিডাড ৩৫ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বশেমুরকৃবির উদ্ভাবিত বিইউ সয়াবিন-১ ও বিইউ সয়াবিন-২ জাত দুটি বিনা ও বারি জাতের চেয়ে অধিক ফলনশীল, জীবনকাল কম, খাদ্যমান (প্রোটিন ও তেল) বেশি ও লবণাক্ত সহিষ্ণু।
তিনি আরও জনান, শুধু সয়াবিন নয় বশেমুরকৃবি কর্তৃক উদ্ভাবিত অন্য ফসলও (সবজি, ফল, ধান) ওইসব এলাকা চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সলিডারিডাড, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অনুরোধ করেছেন। আগামী দিনে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া সয়াবিনের উন্নত জাত উপকূলীয় অঞ্চলে এক লাখ চাষির মধ্যে সম্প্রসারণ করবে। যা প্রতি বছর ২ লাখ টন সয়াবিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
মো. আমনিুল ইসলাম/এসজে/এএসএম