বৃষ্টির পর কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের ভিড়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৮:৫৪ পিএম, ০৩ মে ২০২২

ঈদের ছুটি কাটাতে ভ্রমণপ্রিয়দের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত নগরী কক্সবাজার। সৈকতসহ জেলার অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও দর্শনার্থীদের আনাগোনা বেড়েছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, এবারের ঈদুল ফিতরের ছুটির সঙ্গে মে দিবস ও সাপ্তাহিক মিলিয়ে ৯ দিনের ছুটির ফাঁদে পড়ে দেশ। সেজন্য আমাদের আশা ছিল ঈদের ছুটিতে পর্যটকে টইটম্বুর হবে কক্সবাজার। কিন্তু বৈশাখের মাত্রাতিরিক্ত গরমে সেভাবে মানুষ ঘর থেকে বের হননি। তবে, ঈদের দিন দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় পরিবেশ একটু শীতল হয়। সেই সুযোগে বিকেলে সৈকতে লোকসমাগম বেড়েছে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের ধারণা, মঙ্গলবার (৩ মে) থেকে শনিবার (৭ মে) পর্যন্ত কক্সবাজারে অন্তত কয়েক লাখ পর্যটক সমাগম হবে। গরমের কথা চিন্তা করে সৈকতে লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

বৃষ্টির পর কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের ভিড়

কক্সবাজার সৈকতে সমুদ্রের ঢেউয়ে বিপদাপন্ন হওয়া পর্যটকদের উদ্ধারে কাজ করা সি সেইফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওসমান জানান, বিকেল থেকে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট সমুদ্রপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। সন্ধ্যায় উপস্থিতির সংখ্যা আরও বাড়ে। তবে, ঈদের দিন সৈকতে ঘুরে বেড়ানো দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই স্থানীয়।

সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ী আবদুর রহিম বলেন, ‘ঈদের দিন লোক সমাগম বাড়বে না ভেবে দোকান না খোলার মানসিকতা ছিল। কিন্তু বিকেল থেকে হঠাৎ লোকজন বাড়তে থাকায় দোকান খোলা হয়। বেচাবিক্রি মোটামুটি ভালোই হয়েছে। বুধবার-বৃহস্পতিবার ব্যবসা আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’

বৃষ্টির পর কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের ভিড়

ঈদের ছুটি লম্বা হলেও মূলত হোটেলে ৪ থেকে ৭ মে পর্যন্ত বুকিং রয়েছে বলে জানান তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু।

তিনি বলেন, আমাদের মতো অন্যসব তারকা হোটেলেও একই অবস্থা। তবে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কক্সবাজারে কয়েক লাখ পর্যটক আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বৃষ্টির পর কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের ভিড়

কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, প্রতিটি হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজের ৬০-৭০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। ৪ মে থেকে দূরের গেস্টরা এসে হাজির হবেন।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া আছে। সৈকতসহ হিমছড়ি, ইনানি, রামু, মহেশখালী ও আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে রাতদিন টহলে থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশের দল।

বৃষ্টির পর কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের ভিড়

পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ঈদের দিন থেকে পরবর্তী সাতদিন জেলাজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ নিশ্চিত করতে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ জানান, আগত পর্যটকরা যেন কোনো সমস্যায় না পড়েন সেজন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যেম ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবে।

সায়ীদ আলমগীর/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।