বরিশালে মাকে হত্যার ঘটনায় স্ত্রী-শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় মাকে হত্যার ঘটনায় স্ত্রী ও শ্বশুরকে আসামি করে মামলা করেছেন ছেলে। বৃহস্পতিবার (১২ মে) বেলা ১১টার দিকে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন নিহতের ছেলে উজ্জ্বল হাওলাদার।
মামলায় স্ত্রী লাবণ্য আক্তার (২০) ও শ্বশুর মো. খলিলসহ অজ্ঞাতনামা তিন-চারজনকে আসামি করেছেন তিনি।
এর আগে বুধবার (১১ মে) রাতে উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে উজ্জ্বল হাওলাদারের মা নাজনীন বেগমের (৪৮) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নাজনীন ওই গ্রামের মৃত হানিফ হাওলাদারের স্ত্রী।
নিহত নাজনীন বেগমের প্রতিবেশীরা জানান, তিন বছর আগে উজ্জ্বল হাওলাদারের সঙ্গে লাবণ্য আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে লাবণ্য উগ্রভাবে চলাফেরা করতেন। এছাড়া তিনি ঝগড়াটে স্বভাবের। স্বামী উজ্জ্বল হাওলাদার ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। শ্বশুরবাড়িতে লাবণ্য তার শাশুড়ির সঙ্গে থাকতেন। কিন্তু উগ্রভাবে চলাফেরার কারণে স্বামী ও শাশুড়ির সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না।
ছুটিতে উজ্জ্বল বাড়ি এলে ঈদের পরদিন স্বামী ও শাশুড়ির সঙ্গে লাবণ্যর ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে স্বামী উজ্জ্বলের গায়ে হাত তোলেন তিনি। এরপর লাবণ্য শ্বশুরবাড়ি থেকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠেন। ছুটি শেষে গত সোমবার (৯ মে) উজ্জ্বল কর্মস্থল ঢাকায় ফিরে যান। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় লাবণ্যকে তার বাবা শ্বশুরবাড়ি রেখে যান। পরে রাত ১০টার দিকে নাজনীন বেগমের ভাসুর কালাম হাওলাদার তাদের ঘরে আসেন। ঘরে ঢুকে তিনি নাজনীনের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান।
কালাম হাওলাদার বলেন, বুধবার রাতে উজ্জ্বল ঢাকা থেকে তার মা নাজনীন বেগমকে বেশ কয়েকবার ফোন দেন। কিন্তু নাজনীন ফোন ধরছিলেন না। রাত ১০টার দিকে উজ্জ্বল আমাকে ফোন দিয়ে তার মা নাজনীন বেগমের খোঁজ নিতে বলেন। ঘরে গিয়ে দেখি তার মরদেহ পড়ে আছে। এরপর পুলিশকে খবর দিই।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলাউদ্দিন মিলন বলেন, ওই রাতে ঘরে নাজনীন বেগমকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘরে নাজনীন ও তার ছেলের বউ লাবণ্য আক্তার ছিলেন। এ ঘটনায় লাবণ্যকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে লাবণ্য পুলিশকে জানিয়েছেন, তার বাবা মো. খলিলের সঙ্গে শাশুড়ির সম্পর্ক ছিল। বেশ কয়েকবার বিষয়টি তার চোখে ধরা পড়েছে। এটা তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। এ কারণে তিনি শাশুড়িকে হত্যা করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি আলাউদ্দিন মিলন আরও বলেন, নাজনীন বেগমের ছেলে উজ্জ্বল হাওলাদার বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা থেকে বাকেরগঞ্জের বাড়িতে আসেন। এরপর স্ত্রী লাবণ্য ও শ্বশুর খলিলসহ অজ্ঞাতনামা তিন-চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। লাবণ্য আক্তারকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
সাইফ আমীন/এমআরআর/জেআইএম