ব্রাহ্মণবাড়িয়া টিবি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স না থাকলেও আছে চালক

আবুল হাসনাত মো. রাফি আবুল হাসনাত মো. রাফি , ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১২:৪২ পিএম, ২৭ মে ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একমাত্র বক্ষব্যাধি (টিবি) ক্লিনিকের ৫০ বছরেও বরাদ্দ পায়নি অ্যাম্বুলেন্স। তবে ঠিকই আছেন অ্যাম্বুলেন্সচালক। ক্লিনিকে না এসেই নিয়মিত বেতন উত্তোলন করছেন তিনি। অথচ জেলার তিনটি উপজেলায় চালক সংকটে অ্যাম্বুলেন্স পড়ে রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৩৭ সাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেড্ডায় তিতাস নদীর তীরে ব্রিটিশদের স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে বক্ষব্যাধি বা যক্ষ্মা ক্লিনিক হিসেবে চালু করে সরকার।

৫০ বছর ধরে চিকিৎসা সেবাদানকারী এ প্রতিষ্ঠানে তেমন কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। নেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স। তবে বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে দীর্ঘদিন আগ থেকেই মোক্তার মিয়া নামের এক চালক নিয়োগ দেয় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। ক্লিনিকে না এসে বছরের পর বছর সরকারি বেতন উত্তোলন করে যাচ্ছেন তিনি।

সরেজমিনে গিয়েও এর সত্যতা পাওয়া যায়। ক্লিনিকের হাজিরা খাতায় চিকিৎসক ও অন্য স্টাফদের স্বাক্ষর থাকলেও নেই চালক মোক্তার মিয়ার স্বাক্ষর। এপ্রিল ও মে মাসের খাতায় কোথাও তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের স্টাফরা জানান, কয়েকমাস পর পর এসে চালক মোক্তার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে যান। নিয়মিত বেতনও উত্তোলন করছেন।

এ বিষয়ে জানতে অ্যাম্বুলেন্সচালক মোক্তার মিয়ার মোবাইল নম্বরে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার আপন ভাই সিভিল সার্জনের চালক মোস্তাক মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে ভাইয়ের দীর্ঘদিন যাবত যোগাযোগ নেই। তিনি মাঝে মধ্যে অসুস্থ থাকেন। তার মোবাইল বন্ধ থাকে। আমিও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি না।’

jagonews24

এ বিষয়ে বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের ইনচার্জ ডা. মাহমুদা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ক্লিনিকে চালক পদ আছে। এখানে একজন চালকও আছেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত আসেন না। তবে বেতন নিচ্ছে। তাকে আমরা চিঠি দিয়েছি। বিষয়টি সিভিল সার্জনকেও জানিয়েছি।

এদিকে, জেলার আশুগঞ্জ, সরাইল ও আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স আছে। তবে কয়েক বছর যাবত কোনো চালক নেই। ফলে সরকারি এসব অ্যাম্বুলেন্সে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি রোগী পরিবহন করা যাচ্ছে না।

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হিমেল খান জাগো নিউজকে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি অ্যাম্বুলেন্সের চালক নেই গত একবছর ধরে। আমি যোগদানের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছি চালক নিয়োগ দিতে। কিন্তু এখনো চালক দেওয়া হয়নি।

আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূপুর সাহা জাগো নিউজকে বলেন, আশুগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অ্যাম্বুলেন্স ও আমার ব্যবহারের একটি জিপ গাড়ি রয়েছে। এরমধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের কোনো চালক নেই। খুব জরুরি হলে আমার জিপের চালক অ্যাম্বুলেন্স চালায়। আমি বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি।

অ্যাম্বুলেন্সচালক মোক্তার মিয়ার বিষয়টি জানেন উল্লেখ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. একরামউল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, আমরা তাকে চিঠি দিয়েছি। অচিরেই তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, জেলার তিনটি উপজেলায় অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও এসবের চালক নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে চালক চেয়ে চিঠি দিয়েছি।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]