নওগাঁয় চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী

আব্বাস আলী
আব্বাস আলী আব্বাস আলী , জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৭:০৭ পিএম, ০১ জুন ২০২২

অডিও শুনুন

ভরা বোরো মৌসুমেও নওগাঁয় চালের দাম বেড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে পাইকারি মোকামে প্রতি বস্তায় বেড়েছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর খুচরা বাজারে প্রকারভেদে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ৭ থেকে ৯ টাকা।

নওগাঁ শহরের আলুপট্টি চালের মোকাম ও পৌর খুচরা চাল বাজার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) মিনিকেট বা জিরাশাইল ৩৩০০-৩৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বস্তা কাটারীভোগ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০০ টাকায়। এছাড়া ব্রিআর-২৮ চাল ২৮০০, হাইব্রিড চাল ২২০০ টাকা বস্তা বিক্রি হচ্ছে। মোটা জাতের চাল (স্বর্ণা-৫ হাইব্রিড) প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২৩০০-২৪০০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকারভেদে সব ধরনের চালে প্রতি বস্তায় ২০০-২৫০ টাকা দাম বেড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৩০০-৩৫০ টাকা।

খুচরা বাজারে কাটারীভোগ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায়, যা আগে ছিল ৭০ টাকা। মিনিকেট বা জিরাশাইল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, যা আগে ছিল ৬৫ টাকা। ব্রিআর-২৮ চাল প্রতি কেজি ৫৩-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আগে ছিল ৪৮-৪৯ টাকা। এছাড়া স্বর্ণা-৫ হাইব্রিড জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা কেজি, আগে বিক্রি হয়েছে ৪৫-৪৬ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে ৪-৫ টাকা দাম বেড়েছে।

ঈদের পর দুই দফায় কেজিতে ৭-৯ টাকা দাম বেড়েছে। তবে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৩-৪ টাকা। দাম বাড়ার পর গত তিনদিন থেকে চালের বাজার স্থিতিশীল আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার বড় হাটগুলোর মধ্যে মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ী হাট। মঙ্গলবার (৩১ মে) ছিল হাটবার। এ হাটে প্রতি মণ কাটারীভোগ ধান বিক্রি হয়েছে ১৪০০ টাকা মণ। জিরাশাইল বিক্রি হয়েছে ১৩৫০-১৩৭০ টাকায়।

ব্রি-২৯ ধান ১১০০-১১২০ টাকা এবং ব্রি-২৮ ১২০০ টাকা মণ বিক্রি হয়েছে। মোটা জাতের হাইব্রিড ধান বিক্রি হয়েছে ৮০০-৯৫০ টাকা করে। গত তিনদিনের ব্যবধানে প্রতি মণ ধানে ৫০-৬০ টাকা দাম কমেছে।

শহরের নাপিতপাড়া মহল্লার রিকশাচালক মোতাহার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘চালের দাম অনেক বেশি। যে চাল ৪৪ টাকায় কিনতাম এখন তা ৪৯ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আমাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’

jagonews24

ঈদের পর থেকে এ পর্যন্ত কেজিতে ৭-৮ টাকা দাম বেড়েছে বলে জানালেন শহরের চালবিক্রেতা তাপস কুমার মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘আমরা খুচরা বিক্রেতারা নিয়মিত চাল পাচ্ছি না। মিলাররা চাল উৎপাদন করছেন না। তারা বাজারে ধান কিনে শুকিয়ে গুদামজাত করা নিয়ে ব্যস্ত। বাজারে যদি নতুন চালের আমদানি হতো তাহলে দাম বাড়তো না এবং চালের সংকটও হতো না।’

তবে সদর উপজেলার ফারিহা রাইচ মিলের স্বত্বাধিকারী শেখ ফরিদ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘মৌসুমের এখন শুরু। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সরকারের ঘরে অনেক খাদ্য মজুত আছে। খাদ্যবান্ধব যেসব কর্মসূচি আছে সরকার যদি এসব চালু করে তাহলে বাজার অনেকটা কমে আসবে। এছাড়া আমরা যারা চালকলের মালিকরা আছি, যার যা ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যদি ধান ও চাল মজুত করি তাহলে চালের বাজার বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

নওগাঁ সদর উপজেলা চাল ও ভুসিমাল সমিতির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান টিপু বলেন, সব মিলাররা চাল উৎপাদনে না যাওয়ায় চালের বাজার কিছুটা অস্থির। তবে আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে।’

নওগাঁ ধান-চাল আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিরোদ বরন চন্দন সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমান ধানের বাজার থেকে চালের বাজার কেজিতে দেড় থেকে দুই টাকা কম আছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষকরা শুকনা ধান বাজারে নিয়ে আসতে পারেননি। মিলারদের এসব ধান ক্রয় করে শুকাতে হচ্ছে যাতে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়। সংরক্ষণ করতে গিয়ে বাজারে চালের উৎপাদন কিছুটা ঘাটতি হয়েছে। এ কারণে সারাদেশে পরিমাণমতো চাল সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।’

জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে এবার বোরো আবাদের ক্ষতি হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৭-৮ মণ হারে ফলন কম হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বাজারে ধান কেনার প্রতিযোগিতায় আছেন, এজন্য দাম বেড়েছে। তবে গত দুইদিনে প্রকারভেদে প্রতি মণ ধানে ৫০-৬০ টাকা কমেছে।

আব্বাস আলী/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।