নওগাঁয় মিষ্টির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ১০:০৮ এএম, ০৫ জুন ২০২২
উপকরণ বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে মিষ্টির দাম

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মিষ্টি ও সন্দেশের দাম। নওগাঁয় প্রকারভেদে প্রতি কেজি মিষ্টি-সন্দেশে ২০-৪০ টাকা বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় মিষ্টর দাম বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি তাদের। সারা দই ও পাতিল দইয়ের দাম আগের মতোই আছে।

নওগাঁ পৌর শহরের ইসলামপুর রোডে মিষ্টিপট্টি। যেখানে সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভিড় থাকে। এসব দোকানে বিভিন্নপদের মিষ্টান্ন রয়েছে। শুক্রবার এসব দোকানে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্রেতারা নিজেদের পছন্দমতো দোকানে গিয়ে মিষ্টি কিনছেন। বলতে গেলে লাইন ধরে মিষ্টি কিনতে হচ্ছে। তবে মিষ্টির দাম অসন্তোষ প্রকাশ করছেন তারা। কিন্তু এরপরও কিনছেন।

মিষ্টিপট্টি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি শুকনো সাদা মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে ২২০-২৪০ টাকা, কালো মিষ্টি, লাড্ডু ও রাজভোগ ২০০ টাকা, খেজুরি, রসকদম, দধিয়া ও রসমালাই ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রকারভেদে মিষ্টির দাম ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া সন্দেশ বা প্যারা সন্দেশ ৩৬০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০০ টাকা।

No-(4).jpg

বেসরকারি সংস্থাতে চাকরি করেন আসফাক হোসেন। থাকেন শহরের কোমাইগাড়ী মহল্লার ভাড়া বাসায়। তিনি বলেন, ‘আত্মীয়দের বাড়িতে যাওয়ার জন্য মিষ্টি কিনতে হয়েছে। যে মিষ্টি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা ছিল এখন সেটা কিনতে হয়েছে ২০০ টাকা ২১০ টাকা কেজিতে। বলার তো কিছু নাই। কারণ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে।’

মেসার্স আল-আমিন সুইটসের ম্যানেজার তুষার হোসেন বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের লাগাম ছাড়া। আমাদের জন্য যেমন কষ্টসাধ্য হচ্ছে তেমনি ক্রেতাদের জন্যও। মিষ্টির দাম শুনার পর ক্রেতারা চমকে উঠছেন। কিন্তু কিছু বলার নাই। গত ছয় মাসে কেজিতে ২০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে। বাধ্য হয়ে দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে দাম বাড়ার পর স্থিতিশীল রয়েছে।’

No-(4).jpg

সাব্বির হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান বাজারে মিষ্টি তৈরির উপকরণের দাম বেড়েছে। সে তুলনায় মিষ্টি দাম তেমন বাড়েনি। আগামীতে মিষ্টির দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঈদের মধ্যে ছানার দাম বেশি থাকায় কেজি প্রতি ১০-২০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। কারণ ঈদের মধ্যে মিষ্টির চাহিদা বেশি থাকায় দুধের দামও বেড়ে যায়। বেশি দামে দ্রব্য কিনতে হলে দামও বাড়াতে হয়। এখন দাম স্বাভাবিক আছে।’

নওগাঁ শহরের মিষ্টিপট্টির দাস মিষ্টান্ন ভান্ডারের সত্ত্বাধিকারী শিবু চন্দ্র দাস বলেন, ‘গত পাঁচ-ছয় মাসে দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বমুখী। দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় আমাদের লাভ কম হচ্ছে। তবে সে তুলনায় মিষ্টির দাম বাড়েনি। বর্তমানে শ্রমিকদের মজুরি ২০০ টাকা থেকে হয়েছে ৪০০ টাকা। আগে চিনি ছিল ৬০ টাকা কেজি, এখন ৮০ টাকা, সয়াবিন তেল ছিল ১০০ টাকা, এখন হয়েছে ২০০-২১০ টাকা, ১০০ টাকা কেজির ডালডা এখন ২২০ টাকা, ২০০ টাকা কেজির ছানা এখন ৩০০ টাকা, ৩৫ টাকা কেজির ময়দা কিনতে হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়। আগে খড়ি ছিল ২০০ টাকা মণ, এখন ৩০০ টাকা। এভাবে যদি দ্রব্যমূল্যে দাম বাড়তে থাকে তাহলে আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য আবার ক্রেতারাও বিভ্রান্ত হচ্ছে।’

নওগাঁ রেস্তোরা মালিক সমিতির সভাপতি কাজী জিয়াউর রহমান বাবলু জাগো নিউজকে বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মিষ্টির দাম কিছুটা বেড়েছে। এতের লাভের অঙ্কটাও কমেছে। তবে বিনিয়োগ করতে হচ্ছে বেশি। আগামীতে যদি মিষ্টি তৈরির উপকরণের দাম বাড়ে তাহলে মিষ্টির দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে। তবে সরকার যেভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে মনে হয় না দ্রব্যমূল্যের দাম ঊর্ধ্বগতি হবে।’

আব্বাস আলী/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।