তিন ট্রাক পচা চাল নিয়ে বিপাকে খাদ্য গুদাম পরিদর্শক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১১:০৯ এএম, ১৯ জুলাই ২০২২

ফরিদপুরের নগরকান্দায় পচা চাল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম পরিদর্শক। গত ১০ দিন ধরে তিন ট্রাক ভর্তি চাল খাদ্যগুদামের ভেতরে থাকলেও চাল খালাস করতে দেয়নি বিক্ষুব্ধরা। গত ৮ জুলাই তিনটি ট্রাকে করে মধুখালী উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে ওই চাল নগরকান্দায় আনা হয়।

এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠনের পর এরই মধ্যে কমিটি ট্রাকে থাকা চাল স্যাম্পুল হিসেবে নিয়ে তা ল্যাব টেস্টে পাঠিয়েছে। রিপোর্ট আসার পর এ বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে পচা চাল গুদামে রাখতে অস্বীকার করায় নগরকান্দা এলএসডি মো. আলী আজহারকে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ভয়ভীতি দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব চাল নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়াও পচা চাল গুদামে না রাখতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর প্রতিনিধি হিসেবে দেলোয়ার হোসেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের মধুখালী খাদ্যগুদাম থেকে তিনটি ট্রাকে করে ৬০ টন চাল নগরকান্দা খাদ্য গুদামে রাখার জন্য আনা হয়। এসব চাল নিম্নমানের এবং খাবার অযোগ্য এমন সংবাদ পেয়ে পৌরমেয়র, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাসহ স্থানীয়রা ট্রাক থেকে কয়েক বস্তা চাল বের করেন। ময়লা ও দুগন্ধযুক্ত পচা চাল দেখে তারা এ চাল গুদামে না রাখার জন্য গুদাম কর্মকর্তা (এলএসডি) আলী আজহারকে অনুরোধ করেন। গুদাম কর্মকর্তাও পচা চাল গুদামে রাখতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন।

তিন ট্রাক পচা চালের বিষয়ে গুদাম কর্মকর্তা আলী আজহার জেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে জানান। এসময় তারা চালগুলো বুঝে নেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু গুদাম কর্মকর্তা চাল তার গুদামে রাখতে রাজি হননি।

এ ঘটনায় গত ১৪ জুলাই তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সদস্য সচিব সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তারিকুজ্জামান। সদস্যরা হলেন ভাঙ্গা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ও টিআই শাহনেওয়াজ আলম।

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. আলী আজহার জাগো নিউজকে বলেন, মধুখালী থেকে পাঠানো চাল পরীক্ষা করে দেখা যায় সেগুলো খাবার অযোগ্য এবং নিম্নমানের। পচা চাল রাখা সম্ভব নয় বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানাই। তারা আমাকে চাল বুঝে নিতে বলেন। আমি তা না করায় আমাকে হুমকি প্রদান করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে নগরকান্দা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ইমাম রাজী টুলু বলেন, পচা চালের বিষয়ে অভিযোগ শুনেছি। এ বিষয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এন কে বি নয়ন/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।