যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৩:২৫ এএম, ২০ জুলাই ২০২২

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় সদলবলে হামলা চালিয়ে স্ত্রী, শাশুড়ি ও স্ত্রীর বোনদের মারপিট, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ওই বাড়িতে থাকা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার ৮২ বছর বয়সী বিধবা পত্নীকেও চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে আহত করা হয়।

গত শুক্রবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ভাঙ্গা পৌর এলাকার কাপুড়িয়া সদরদি গ্রামের মারজানা বেগমের বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর চারদিন অতিবাহিত হলেও মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা নিতে গড়িমসি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তবে পুলিশ বলছে, মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অন্যদিকে, হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীর অভিযোগ, তাকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য উল্টো আহত করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় তিনিও থানায় অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে মারজানা বেগমের সেজো মেয়ে আন্নি আক্তারের (২২) সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কে একই মহল্লার আলমগীর খানের ছেলে জুবায়ের খানের (২৫) বিয়ে হয়। তাদের দুই বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

বিয়ের এক বছর না যেতেই জুবায়ের যৌতুকের জন্য আন্নিকে মারধর করা শুরু করে। এর আগে, যৌতুকের জন্য একবার আন্নিকে মেরে জখম করে সে। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। মাঝেমধ্যেই মোবাইলে সে কথা জানিয়ে মায়ের কাছে কান্নাকাটি করতো আন্নি। এভাবে কয়েকবার তাকে বাড়ি নিয়ে এলে, স্বামীর বাড়ির লোকেরা আবার তাকে শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যেতো।

মারজানা বেগম অভিযোগ করেন, সর্বশেষ গত ১৫ জুলাই দুপুরে জুবায়ের ও তার বাড়ির প্রায় ১৫ জনের একদল নারী-পুরুষ তাদের বাড়িতে হামলা করে। তারা বর্বরভাবে তার তিন মেয়ে আন্নি, মনিরা ও এথিনা এবং ছোট মেয়ের জামাই মিঠুকে লাঠি ও রড দিয়ে মারপিট করে।

এ সময় তার বয়োবৃদ্ধ মা রিজিয়া বেগমকেও (৮২) চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে আহত করে। এরপর তারা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে, ওয়ারড্রবে রাখা ১৪ ভরি সোনার গহনা নিয়ে যায়। তাদের হাতে লাঠিসোটা ছাড়াও ছ্যান ও রামদা ছিলো।

মারজানা বেগমের বাবা মরহুম শামসুদ্দিন মোল্যা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।তার চার মেয়ের মধ্যে সবারই বিয়ে হয়ে গেছে। এদের মধ্যে সেজো মেয়ে এই আন্না। ফরিদপুর সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াকালে তার সঙ্গে জুবায়েরের বিয়ে হয়।

আন্না আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা হতো। স্বামী তার ও মেয়ের কোনো ভরণপোষণও দেয় না।

এ ব্যাপারে জুবায়ের খান জাগো নিউজকে বলেন, ঈদের আগে তার নানু মারা যান। শুক্রবার তার মিলাদ ছিলো। এজন্য মেয়েকে আনতে তিনি তার মামা শ্বশুরের অনুমতি নিয়ে তাদের বাড়ি গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গেলে তাকে মেরে ফেলার জন্য হামলা করে তারা। পরে এলাকার লোকেরা তাকে উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, তার মেঝো ভায়রা সুমন গাড়ির ব্যবসা করেন। পরিচিত একজনের কাছে গাড়ি বিক্রি নিয়ে তার সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। এখন তার পরামর্শে এসব হচ্ছে। আমি আমার ছোট্ট মেয়েকে দেখতেও যেতে পারি না এখন।

যৌতুক ও সোনা লুটের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে তিনি উল্টো সেদিন তার মোবাইল এবং তার বোনের গয়না কেড়ে নেওয়ার পাল্টা অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ ও পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু তাহের জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনার পর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছে। এ নিয়ে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এন কে বি নয়ন/এমপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।