৬ মাসের ছেলেকে রেখে স্ত্রীকে তাড়ালো স্বামী, ফিরিয়ে দিলো পুলিশ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় যৌতুকের জন্য মিম বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্বামী মো. শফিকুল বিশ্বাস ও তার পরিবারের লোকজন মিমকে পিটিয়ে ছয় মাসের ছেলেকে রেখে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। গত মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়বাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরে বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) রাতে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ স্থানীয় থানায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় ওই রাতেই পুলিশ ছয় মাসের শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে বোয়ালমারীর শেখপুরের রবিউল বিশ্বাসের মেয়ে মিম ও আলফাডাঙ্গার বড়ভাগ গ্রামের মিল্টন বিশ্বাসের ছেলে শফিকুল বিশ্বাসের (২৫) বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ছয় মাসের ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামী শফিকুল বিশ্বাস স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। এছাড়া নেশা করে ও জুয়া খেলে গভীর রাতে বাড়িতে ফেরেন। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে গায়ে হাত তোলেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। সম্প্রতি জুয়া খেলে তার অনেক টাকা দেনা হয়ে যায়। দেনা পরিশোধের জন্য দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন শফিকুল। ঘটনার দিন এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন মিমকে মারধর করেন। খবর পেয়ে মিমের পরিবারের লোকজন সেখানে গেলে গালিগালাজ করেন শফিকুলের পরিবারের লোকজন। এসময় ছয় মাসের ছেলেকে রেখে মিমকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন তারা। আহত অবস্থায় মিমকে পরিবারের লোকজন আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে জানতে স্বামী শরিফুল বিশ্বাসের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। এমনকি বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বাবা মিল্টন বিশ্বাস যৌতুক চাওয়া ও নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করে জাগো নিউজকে বলেন, মেয়েটি স্বামীর সংসারে থেকেও স্বামী ও পরিবারের লোকজনের কথা শোনে না। বরং আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এন কে বি নয়ন/এমআরআর/এমআরএম