যশোরে বালাম বই কাটাছেঁড়ার অভিযোগে নকলনবিশ বরখাস্ত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৮:০৭ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০২২

যশোর জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড রুমের বালাম বইয়ের পৃষ্ঠা কাটাছেঁড়া চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত এই চক্রের দৌরাত্ম্যে প্রকৃত জমির মালিক বিপাকে পড়ছেন। সম্প্রতি বালাম বইয়ের পৃষ্ঠা কাটাছেঁড়ার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম নামে এক নকলনবিশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনা তদন্তে ঝিকরগাছা সাব-রেজিস্ট্রারকে প্রধান করে তিন সদস্যদের কমিটি করা হয়েছে।

জানা যায়, ব্রিটিশ ভারতের প্রাচীন জেলা যশোরসহ ১৯ জেলার জমির দলিলসহ অন্যান্য ডকুমেন্টস যশোর জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড রুমে সংরক্ষিত আছে। দীর্ঘদিন ধরে এই রেকর্ড রুমের ভলিউম বইয়ে দলিলের পৃষ্ঠা কাটাছেঁড়া করার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই চক্রের দৌরাত্ম্যে যশোর রেজিস্ট্রি রেকর্ড রুম অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি শার্শা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ১৯৯০ সালের ৬৮ বালামের ৫১০২নং দলিলের ২০৯ থেকে ২১২ পাতা পর্যন্ত কাটাছেঁড়া ও তছনছ করেন নকলনবিশ সাইফুল ইসলাম। এ বিষয়ে গত ২৩ আগস্ট জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর অভিযোগ দেন যশোর সদর মহাফেজখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ২৪ আগস্ট জেলা রেজিস্ট্রার মো. শাহ্জাহান সর্দার স্বাক্ষরিত আদেশে অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নকলনবিশ সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নকলনবিশ সাইফুল ইসলাম বলেন, দলিলের নকল তোলার জন্য আবেদন করেছিলাম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রেকর্ডকিপারের কাছে এন্ট্রি করে বালাম বই নামাই। এরপর দেখা গেছে ওই বালাম বইয়ের দাগ নম্বর কাটা। বালাম বই যেহেতু আমি নামিয়েছিলাম, তাই অভিযোগ আমার দিকেই আসছে। এজন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার মো. শাহ্জাহান সর্দার বুধবার বলেন, নকলনবিশ সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঝিকরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডলকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিলন রহমান/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।