রাজশাহীতে গণসমাবেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চারদিনে বিএনপির ৪৪২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশিত: ০২:৩৩ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২২
প্রতীকী ছবি

রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

তারা বলছেন, চারদিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ থানায় নতুন করে করা পাঁচ মামলায় বিএনপির ৪৪২ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। আর গ্রেফতার হয়েছেন অন্তত ১৯ জন। এতে নিজ বাসায় ঘুমাতেও ভয় পাচ্ছেন নেতা-কর্মীরা

বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশ অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে নাশকতার মামলা দিচ্ছে। কর্মীসভা থেকে নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ককটেল রেখে দিয়ে আবার তারাই (পুলিশ) উদ্ধার দেখিয়ে মামলা দিচ্ছে। সব থানায় একই কায়দায় পুলিশ বাদী ও সাক্ষী হয়ে মামলা করেছে। হয়ত কিছু নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করবে। তবে সাধারণ মানুষকে আটকিয়ে রাখতে পারবে না।

অন্য বিভাগের তুলনায় রাজশাহীর সমাবেশে অনেক বেশি জনসমাগম হবে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন পাঁচ মামলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পাঁচ থানাতেই একটি করে মামলা হয়েছে। এর সবগুলোই ফৌজদারি মামলা।

বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, সবগুলো মামলার বিবরণে একই রকম বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন-বিএনপির লোকজন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার জন্য বিস্ফোরক দ্রব্য রেখেছিল।

২২ নভেম্বর বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বাতেন খাঁ মোড়ে সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের কার্যালয়ের সামনে থেকে আটটি ককটেল উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় রাতে এস আই আজিম আহম্মেদ ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ে ৪০-৫০ জনকে আসামি করা করা হয়। এ মামলায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ওবায়েদ পাঠান ও জেলা যুবদলের সভাপতি তবিউল ইসলাম তারিফের নামও রয়েছে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ওবায়েদ বলেন, ককটেল উদ্ধারের ঘটনাটি সাজানো। উদ্ধার করা ককটেলের সঙ্গে বিএনপির কর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হামলা চালায়। পরে অফিসের ভেতর থেকে ককটেল উদ্ধারের কথা বলছে। এটা অযৌক্তিক।

এদিন সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের রাণীহাটি থেকে একই অভিযোগে বিএনপির ১৫ জনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি একটি বিস্ফোরক মামলায় বিএনপির ১০৫ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। এ মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখসহ ৮০-৮৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

এসবের পাশাপাশি ২০ নভেম্বর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহট থানায় বিএনপির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। প্রতিটি মামলা বিস্ফোরক আইনে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া বলেন, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীর সমাবেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিএনপির লোকজন যেন যেতে না পারে, সেজন্য এসব মামলা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি থানায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে বিস্ফোরক আইনে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। মামলার পর থেকে অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির কর্মীদের সহিংসতা সৃষ্টির কোনো উদ্দেশ্য নেই। আমরা গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম সাহিদ জাগো নিউজকে বলেন, পুলিশ কাউকেই কোনো ধরনের হয়রানি করছে না। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলাগুলো করা হচ্ছে। সেসব অপরাধে যারা জড়িত, পুলিশ শুধু তাদেরই গ্রেফতার করছে।

সোহান মাহমুদ/জেএস/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।