কাজে আসছে না কৃষি আবহাওয়ার তথ্য বোর্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৪:১৭ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২২

ফেনীর সোনাগাজীতে কাজে আসছে না কৃষি আবহাওয়ার পূর্বাভাস তথ্য বোর্ড। উপজেলার ৯ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভায় তথ্য বোর্ড থাকলেও সে তথ্য হালনাগাদ করা হয় না। ফলে অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে বোর্ডগুলো।

এর আগে ২০২১ সালে কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আবহাওয়ার আগাম তথ্য জানাতে এ বোর্ড লাগানো হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের কৃষি আবহাওয়া পরামর্শ সেবা সহজলভ্য করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। নামমাত্র একটি বোর্ড লাগিয়ে শেষ হয়েছে এ প্রকল্প। কোথাও কোথাও সে বোর্ডগুলো ভেঙে গেছে। স্বয়ংক্রিয় রেইন গজ মিটার ও সৌরবিদ্যুতের প্যানেল অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও সে সব যন্ত্র খোয়া গেছে। কোনোটি আবার নষ্ট। তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে এসব বোর্ড এখন আবর্জনায় পরিণত হয়েছে।

আবহাওয়া ও নদ-নদীর সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কিত উন্নতমানের এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য কৃষকের কাছে পৌঁছাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস তথ্য বোর্ডের মাধ্যমে গত তিন দিন আগের এবং পরবর্তী তিন দিনের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ সম্পর্কে জানার কথা। কিন্তু বোর্ডগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় কৃষকদের কোনো কাজে আসছে না।

কৃষি আবহাওয়া বিষয়ক তথ্য পাঠানোর জন্য ইন্টারনেট কানেক্টিভিটিসহ সোনাগাজীর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের জন্য ট্যাব সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ট্যাবগুলো বিকল হয়ে পড়েছে। এছাড়া কয়েকটি বোর্ড ভেঙে পড়ে আছে ইউনিয়ন পরিষদের ফটকের পাশে। ফলে তথ্য না পেয়ে একদিকে যেমন ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন কৃষক, তেমনি গচ্ছা যাচ্ছে প্রকল্পের টাকাও।

বক্তারমুন্সি গ্রামের কৃষক নিজাম মোল্লা বলেন, এগুলো কোনো কাজে আসছে না। বোর্ডগুলো টাঙানোর পর কিছু ছবি তুলে নিয়ে গেছে। এরপর এভাবেই পড়ে আছে।

কাজে আসছে না কৃষি আবহাওয়ার তথ্য বোর্ড

বগাদানা ইউনিয়নের কৃষক মো. ইস্রাফিল জানান, তারা সবজিসহ অন্যান্য ফসলাদির চাষ করেন। একটু খরা বা বৃষ্টি হলেই ক্ষতি। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতিবছর ফসলের অনেক ক্ষতি হয়। আগাম তথ্য পেলে আগে থেকেই সতর্ক হওয়া যেতো।

চর দরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, স্বয়ংক্রিয় রেইন গজ মিটার ও সৌরবিদ্যুতের প্যানেল নেই। শুধু তথ্য বোর্ডটাই রয়েছে। যা সব সময় বন্ধ থাকে। কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের খোঁজ খবর নিয়ে থাকেন। চাষাবাদ করতে কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান করেন।

এ বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের বিভিন্ন ফসল রক্ষায় আগাম তথ্য দিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারের এ প্রকল্প হাতে নেয়। উপ-সহকারী কর্মকর্তারা মাঝে মধ্যে আপডেট করার চেষ্টা করেন। প্রকল্প থেকে পাওয়া ট্যাবগুলো নষ্ট হয়ে গেছে বলে জেনেছি।

ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. একরাম উদ্দিন বলেন, কৃষকদের আগাম তথ্য জানাতে ২০২১ সালে এ বোর্ড লাগানো হয়। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/আরএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।