সোনালী ব্যাংকে অনিয়ম-দুর্নীতি

ম্যানেজার বদলির পর বেনাপোল শাখার তিন কর্মকর্তা বরখাস্ত

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল
প্রকাশিত: ০৬:০৮ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২২

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের বেনাপোল শাখা ব্যবস্থাপকের (ম্যানেজার) বদলির পর এবার ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন, প্রিন্সিপাল অফিসার মহিদুল ইসলাম, সাদেক আলী এবং ক্যাশ অফিসার দবির হোসেন।

এর আগে গত সপ্তাহে বেনাপোল শাখা ব্যবস্থাপক আক্তার ফারুককে যশোরে বদলি করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) সোনালী ব্যাংক বেনাপোল শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মহসিন আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এ শাখার তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে আজ সকালে জেনেছি। কিন্তু বেনাপোল শাখায় এখনো কোনো চিঠি পৌঁছায়নি।

মহসিন আলী আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে তাদের অনিয়ম এবং দুর্নীতি তদন্তে ধরা পড়লে কর্তৃপক্ষ এ তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। বিষয়টি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে অধিকতর তদন্ত করতে সোনালী ব্যাংকের একটি টিম কাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়েক কোটি টাকা শুল্ক পরিশোধ না করে সোনালী ব্যাংক বেনাপোল শাখা থেকে আমদানিকারকের অনুকূলে ছাড়পত্র দেওয়ার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খালিদ এন্টারপ্রাইজ সম্প্রতি একাধিক এলসির মাধ্যমে ভারত থেকে কয়েক কোটি টাকার ফল আমদানি করে। এসব পণ্যের চালানের খালাস নিতে আমদানিকারকের পক্ষে কাস্টম হাউজে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আলেয়া এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু তারা আমদানি পণ্যের বিপরীতে আসা এক কোটি ৬০ লাখ টাকা শুল্ক পরিশোধ না করেই সোনালী ব্যাংক বেনাপোল শাখার ছাড়পত্র নিয়ে আমদানি করা মালামাল খালাস করে নিয়ে যায়।

বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসলে তাদের একটি টিম গত সপ্তাহে বেনাপোল সোনালী ব্যাংকে আকস্মিক অভিযান চালায়। এসময় শুল্ক পরিশোধ না করে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে আমদানিকারকের পরবর্তী পণ্য চালানের বিপরীতে জমা দেওয়া শুল্কের টাকা বকেয়ার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিষয়টি সোনালী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

কয়েকজন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোলের কয়েকজন শুল্ক ফাঁকির হোতা সিন্ডিকেট করে আমদানি পণ্যের শুল্কের চালানের বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের বেনাপোল শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের এ সুযোগ দিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় প্রায় ২০ কোটি টাকা শুল্ক পরিশোধ না করে চালান নিয়ে মাল খালাস করা হয়েছে।

সোনালী ব্যাংক যশোর অঞ্চলের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমদানি পণ্যের শুল্ক পরিশোধ না করে চালানের কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে একটি প্রতিষ্ঠান। পরে আমরা শুল্ক আদায় করেই ছাড়পত্র দিয়েছি। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে শাখা ব্যবস্থাপক আক্তার ফারুককে গত সপ্তাহে যশোরে বদলি করা হয়েছে। আজ আরও তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে যারা দোষী হবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো. জামাল হোসেন/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।