নীলফামারীতে ‘নো হেলমেট, নো পেট্রল’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২২

দুর্ঘটনা থেকে মোটরসাইকেল চালকদের রক্ষায় হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে নীলফামারীতে আবারও ‘নো হেলমেট, নো পেট্রল’ কর্মসূচি শুরু করেছে পুলিশ। পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশ ও পাম্প মালিকদের এমন সিদ্ধান্তে সন্তোষ জানিয়ে অনেকেই বলছেন, এতে দুর্ঘটনা কমবে।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে নীলফামারীর পেট্রল পাম্পগুলোতে চালু হয়েছে এ নিয়ম। হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালানোর বিষয়ে সচেতন করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে করা হয়েছে মাইকিং।

এদিকে ফিলিং স্টেশনের সিসি টিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ দেখেও কার্যক্রমটির তদারকি করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে হেলমেট ছাড়া পেট্রল বিক্রির সুযোগ নেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে।

জেলার কয়েকটি পেট্রল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, জনসচেতনতা তৈরিতে পেট্রল পাম্পগুলোতে বিভিন্ন সাইনবোর্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করা হয়েছে। কয়েকটি পেট্রল পাম্পে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পেট্রল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার করা, দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল না চালানো ও মোটরসাইকেল চালানোর সময় সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করার জন্য আরোহীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জেলা শহরের বাদিয়ার মোড়ে রাজা ফিলিং স্টেশনে পেট্রল নিতে এসেছিলেন পরিমল রায়। তবে হেলমেট না থাকায় তাকে পেট্রল দেয়নি পাম্প কর্তৃপক্ষ।

পরিমল রায় বলেন, ‘নিয়মটি এভাবে চলমান থাকলে অবশ্যই আমরা সচেতন হবো। আজ আমি সচেতন হয়েছি, কাল আরেকজন এভাবে ঠিক হয়ে যাবে। এতে দুর্ঘটনাও কমবে। এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।’

ব্যবসায়ী শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘দোকান থেকে বাসায় যাবো। এজন্য তেল নিতে এসেছিলাম কিন্তু হেলমেট না থাকায় দেয়নি। পরে দোকান থেকে হেলমেট এনে তেল নিলাম।’

নীলফামারী সরকারি কলেজের ছাত্র আকরাম হোসেন বলেন, ‘আসলে এটা আমাদের জন্য ভালো। হেলমেট ছিল, তেল নিলাম। বিষয়টি ভালো লেগেছে।’

হক ফিলিং স্টেশনের মালিক সামসুল হক বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমাদের মালিকদের নিয়ে পুলিশ সুপার মিটিং করেছেন। উদ্যোগটি অনেক ভালো। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পুলিশ প্রশাসনের পাশে আমরা আছি। আমরা তাদের সবধরনের সহযোগিতা করবো।’

নীলফামারীতে ‘নো হেলমেট, নো পেট্রল’

ডোমার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সেম্বু নাথ রায় বলেন, পুলিশ সুপার আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন আমরা তা পালন করছি।

জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবীর বলেন, এ বিষয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে পুলিশের পক্ষ থেকে অনলাইনে এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোও মনিটরিং করা হচ্ছে।

নীলফামারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, মানুষ যেন সচেতন হয় এবং হেলমেট পরার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন সেজন্য বিশেষ এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।