নীলফামারীতে যত্রতত্র শিল্পকারখানা, কমছে কৃষিজমি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৯:১৭ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২

নীলফামারীতে যত্রতত্র শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় কমছে কৃষিজমি। সৈয়দপুরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরীতে জায়গা না থাকায় বিভিন্ন উপজেলায় কৃষিজমিতে গড়ে উঠছে এসব কারখানা।

আগামী জুনে উত্তরাঞ্চলের মানুষ গ্যাস পাচ্ছে-পেট্রোবাংলার এমন ঘোষণার পর এ অঞ্চলে জমি কিনে অপরিকল্পিতভাবে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্পকারখানা গড়ে তুলছেন দেশের শিল্প উদ্যোক্তারা। এতে প্রভাব পড়ছে এ জেলার বেশিরভাগ মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন কৃষির ওপর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১ লাখ ২৪ হাজার ৯২২ হেক্টর। এখানকার বেশিরভাগ জমি তিন ফসলি (বছরে তিনবার ফসল হয়) এবং ৫৫০ হেক্টর চার ফসলি। এসব জমিতেই জেলার সৈয়দপুর, জলঢাকা, ডিমলা ও নীলফামারী সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব কারখানা।

nil1

কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে শুধু সৈয়দপুরেই শিল্পকারখানা ও আবাসন গড়ে ওঠায় কমেছে ২০০ হেক্টর আবাদি জমি। এছাড়া উত্তরা ইপিজেডের বাইরে জেলায় গড়ে উঠেছে প্রায় তিন হাজারের বেশি শিল্পকারখানা।

বিসিকের তথ্য অনুসারে, নীলফামারীকে শিল্পকারখানায় সমৃদ্ধ করতে ১১ একর জমি নিয়ে সৈয়দপুরে ১৯৯০ সালে বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয়। তবে প্রতিষ্ঠার ১০ বছরের মধ্যেই ৯২টি প্লটের সবগুলোতেই শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে। এরপর নতুন নতুন শিল্প উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলেও সেখানে তারা কোনো জায়গায় না পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন আবাদি ও অনাবাদি জমিতে গড়ে তুলছেন শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

নীলফামারী চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি রাজু পোদ্দার জানান, সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর প্লট সম্প্রসারণ করা না হলেও জেলার শিল্প উন্নয়ন থেমে নেই। বিভিন্ন উপজেলায় অপরিকল্পিতভাবে ফসলি জমিতে কারখানা গড়ে উঠছে।

nil1

তিনি বলেন, বিসিকে প্লট বরাদ্দ পেলে উদ্যোক্তারা অনেক সাশ্রয়ে কারখানা গড়ে তুলতে পারতেন। বাইরে অতিরিক্ত দামে জমি কিনে যাতায়াত ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে অনেক পুঁজি খোয়াতে হয়।

বিসিকের জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক হুসনে আরা খাতুন বলেন, ‘সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর আশপাশে কোনো জায়গা না থাকায় তা সম্প্রসারণ করা সম্ভব নয়। তবে কৃষিজমির যাতে ক্ষতি না হয়, সেজন্য জেলা সদরে দ্রুত নতুন একটি নগরী স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন বলেন, ‘বগুড়া থেকে পাইপলাইনে নীলফামারীতে গ্যাস আসছে। এজন্য এখানে উদ্যোক্তাদের সমাগম বাড়ছে। তবে আবাদি জমিতে শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে, যা উদ্বেগজনক। তবে শিল্পনগরী স্থাপিত হলে কৃষিজমিগুলো রক্ষা পাবে। সেজন্য জেলা প্রশাসন কাজ করছে।

এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।