ফেনী কলেজে চাইল্ড কেয়ার সেন্টার থাকলেও খোলা হয় না কখনো
ফেনী সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন ২২ হাজার শিক্ষার্থী। এর অর্ধেকই ছাত্রী। অনেকে বিয়ের পর সন্তানদের নিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম কিংবা পরীক্ষায় অংশ নিতে কলেজে আসেন। তাদের বিড়ম্বনার কথা চিন্তা করে কলেজে চালু করা হয় চাইল্ড কেয়ার সেন্টার। তবে দিনের পর দিন এটি বন্ধ থাকার কারণে সুফল পাচ্ছেন না ছাত্রীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কলেজের অনার্স ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে বিশেষায়িত চাইল্ড কেয়ার সেন্টার চালু করা হয়। ২০২২ সালের মে মাসে কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল কান্তি পাল এটির উদ্বোধন করেন। তবে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির পরীক্ষা চলাকালে কোনোদিন এ কক্ষের দরজা খোলা দেখা যায়নি বরে জানা গেছে।

একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উদ্বোধনের পরদিন থেকে আজ পর্যন্ত কোনো ছাত্রী তাদের সন্তানদের নিয়ে ওই কক্ষে প্রবেশ করতে পারেনননি। বরং তারা কলেজে এসে শিশু সন্তানদের নিয়ে প্রায়ই বিড়ম্বনার শিকার হন।
চাইল্ড কেয়ার সেন্টার প্রজেক্ট কমিটির সদস্য ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বিপ্লব শীল জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (সিইডিপি) আওতায় তিনিসহ দুইজন শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ওই প্রশিক্ষণের আওতায় কলেজ প্রশাসনের অর্থায়নে চাইল্ড কেয়ার সেন্টার তৈরির উদ্যোগ নেন। তবে এটিকে সচল রাখার দায়িত্ব কলেজ কর্তৃপক্ষের। এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি।

এদিকে, কলেজ ছাত্র-সংসদ কার্যালয় সংলগ্ন একটি কক্ষে রয়েছে ক্রীড়া কক্ষ। রোববার (জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জানালা ভেঙে আছে। ধুলাবালিতে স্যাঁতসেঁতে অবস্থা। সেখানে রয়েছে একটি ক্যারাম বোর্ড খেলার উপযোগী রয়েছে। আরও দুটি ক্যারাম বোর্ড উল্টে পড়ে থাকলেও আর কোনো সরঞ্জাম চোখে পড়েনি। অথচ জেলার প্রধান এ বিদ্যাপীঠে ক্রীড়া সামগ্রী কেনার জন্য প্রতিবছরই বরাদ্দ দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, কলেজের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকেও প্রতিবছর বরাদ্দ আসে। ম্যাগাজিন, দুটি জাতীয় বাংলা পত্রিকা, ইংরেজি পত্রিকার পাশাপাশি স্থানীয় পত্রিকা রাখার স্ট্যান্ড থাকলেও সেগুলোর দেখা মেলেনি। এই খাতেও প্রতিমাসে বিল আদায় করেন কতিপয় কর্মচারী।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনের জন্য ২০২১ সালে কলেজ তহবিল থেকে পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। আয়োজনের পাশাপাশি এই বরাদ্দ থেকে ক্রীড়া সামগ্রীও কেনার নিয়ম রয়েছে।
ওই সূত্র আরও জানায়, কলেজে খেলার দৃশ্যমান মাঠ থাকলেও সেটিতে খেলাধুলা হয় না। অথচ প্রতিবছরই ক্রীড়াসামগ্রী কেনা হয়। কিন্তু এসব সামগ্রী যায় কোথায় কারও জানা নেই। এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী ক্রীড়া কক্ষে যাওয়ার পরিবেশ না থাকায় সেটিও খোলা হয় না।

ক্রীড়া কক্ষের পিয়ন হিরো চাকমা জানান, গত কয়েকবছর ধরে তিনি এখানে মাস্টাররোলে চাকরি করছেন। তিনিসহ ঝাড়ুদার ননী ও রঞ্জিত ক্রীড়া কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে সবশেষ কবে ক্রীড়া রুমটি খোলা হয়েছে তার মনে নেই। আগে একসময় ক্রীড়া রুমে পত্রিকা রাখা হতো। বৃষ্টি হলেই এ রুমে পানি পড়ে। এজন্য এখন আর পত্রিকা রাখা হয় না।
ক্রীড়া শিক্ষক সুহৃদ রঞ্জন পাল জানান, ক্রীড়া রুম ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় তিনি লাল বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় বসেন। উপ-কমিটির মাধ্যমে প্রতিবছরই ক্রীড়াসামগ্রী কেনা হয় বলে তার দাবি।
অবশ্য ফেনী সরকারি কলেজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, চাইল্ড কেয়ার সেন্টারটি একজন ছাত্রীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কী না এ বিষয়ে খোঁজ নেবো।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এমআরআর/জেআইএম