রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা
৪ দিনেও গ্রেফতার হয়নি যুবলীগকর্মী
পাবনার ঈশ্বরদীতে রিকশাচালক মামুন হোসেনকে (২৫) গুলি করে হত্যার চারদিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এ মামলায় চার আসামির মধ্যে পৌরসভার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। কামাল উদ্দিনের ভাই যুবলীগ কর্মী আনোয়ার হোসেনকে ২ নম্বর আসামি করা হয়।
নিহত মামুনের মা লিপি খাতুনের করা মামলায় আনোয়ার হোসেনের গুলিতে মামুন নিহত হন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে অভিযান চালিয়ে কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন ও তার ভাতিজা হৃদয়কে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
তবে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন এখনো ধরা না পড়ায় নিহতের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কামাল উদ্দিন গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ না করায়ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন স্বজনরা।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত ঘোষ বলেন, ঘটনার পর থেকেই আসামি আনোয়ার হোসেন পালতক। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৪ জানুয়ারি রাতে ঈশ্বরদীর পশ্চিমটেংরি কড়ইতলা এলাকায় শ্যালো মেশিনচালিত ভটভটির সঙ্গে লেগুনার সংঘর্ষে গ্লাস ভাঙাকে কেন্দ্র করে বিরোধ হয়। দুই পক্ষ কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কাউন্সিলর কামাল উদ্দিনের ভাই আনোয়ার হোসেন পিস্তল বের করে গুলি চালান। এতে রিকশাচালক মামুন হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পরদিন রাতে নিহত মামুনের মা লিপি খাতুন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
মামুনের মামা মনিরুল ইসলাম মনির দাবি, কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন ও তার ভাই এলাকায় বেশ প্রভাবশালী। দরিদ্র হওয়ায় মামুনের পরিবারের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। তিনি দ্রুত এ মামলার সব আসামিকে গ্রেফতারের দাবি জানান।
মামুনের মা লিপি খাতুন বলেন, আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি। আমার একটাই দাবি হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। খুব শিগগির তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
শেখ মহসীন/এসআর/জিকেএস