কেমিক্যাল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণ কঠিন ছিল: ফায়ার সার্ভিস

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম

‘নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে দুপতারা এলাকায় এসপি কেমিক্যাল কারখানায় লাগা আগুন সাধারণ ছিল না। এখানে সব থেকে সমস্যা ছিল আগুন নিয়ন্ত্রণ করা।’ এমনটাই বলছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন তারা। এতে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট কাজ করে।

মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় কেমিক্যালের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে কাছাকাছি জায়গায় রূপগঞ্জের নান্নু স্পিনিং মিলেও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় এ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল আড়াইহাজারের কেমিক্যাল কারখানার আগুন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এসপি কেমিক্যাল কারখানার শ্রমিক জাহাঙ্গীর বলেন, দুপুরে খাওয়ার সময় ছিল তখন। কারখানায় কাজ করা প্রায় দেড়শত শ্রমিক খেতে চলে যায়। এরই মধ্যে হঠাৎ বিকট আওয়াজ হয়। বেরিয়ে দেখি কেমিক্যালের গোডাউনে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, আমরা এসপি কেমিক্যালে আগুন লাগার খবর পেয়েছিলাম ১টা ৩৫ মিনিটে। আমাদের গাড়ি পৌঁছায় ১টা ৪০ মিনিটে। আরেকটা অগ্নিকাণ্ড থেকে ফেরার পথে এ আগুনের খবর পাই। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি।

na-(2).jpg

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বড় সমস্যা ছিল কেমিক্যাল। হাইড্রোজেন পার অক্সাইডেড একটি কারখানা। অর্গানিক কেমিক্যাল থেকে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডেড তৈরি হয়। এই অর্গানিক কেমিকেলের অংশে আগুন ধরেছিল। এ অংশে ট্রাই মিথাইল বেনজিন ট্রাই অক্সাইড পটাশিয়াম কার্বোনেট এসিডসহ বিভিন্ন রকমের কেমিক্যাল ছিল। এটার পাশে ৪০ থেকে ৫০ ফিট হাইড্রোজেন পার অক্সাইডেডের গোডাউন। আমাদের সব থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল এ গোডাউনকে আগুনে মুক্ত করা।’

তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের ফায়ার ফাইটাররা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা নিরলস পরিশ্রম ও নির্ভীকভাবে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আমরা অত্যাধুনিক টেকনোলজি এখানে হাজির করেছিলাম। রোবট কন্ট্রোল ফায়ার ফাইটিংয়ের মাধ্যমে মূলত সম্পূর্ণভাবে আগুনটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এই আগুনটা সাধারণ আগুনের মতো ছিল না। রোবট কন্ট্রোল ফায়ার ফাইটিং আমাদের শক্তিকে সমৃদ্ধ করেছে।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।