বালিয়াড়িতেই পুঁতে রাখা হলো সেই মৃত তিমি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৬:১৬ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০২৩

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে আটকা পড়া বিশালাকার মৃত তিমিটি বালিচাপা দেওয়া হয়েছে। তিমিটি যেখানে আটকা পড়েছিল, সেই স্থানের পাশেই পুঁতে রাখা হয়।

মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দিনগত রাত ৩টার দিকে এ কাজ সম্পন্ন হয় বলে জানান কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহ।

মঙ্গলবার সকাল থেকে কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ এলাকার সাগরে পানিতে মৃত তিমির দেহটি ভাসতে ভাসতে রাত ১০টায় কলাতলীর সাইমন বিচ এলাকার বালিয়াড়িতে আটকা পড়ে। পরে এটি নজরদারিতে রাখা হয়।

আরও পড়ুন: ১৪ ঘণ্টা ভেসে বালিয়াড়িতে আটকা পড়লো সেই মৃত তিমি

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের কক্সবাজার (সদর) রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা জানান, সাগরে ভাসমান তিমিটির বিষয়ে মঙ্গলবার সকাল হতেই খোঁজ নিয়ে নজর রাখছিলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ। রাতে তিমিটি বালিয়াড়িতে উঠে আসার খবর পেয়েই তিনি (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) কক্সবাজার পৌরসভা, বনবিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলার উদ্যোগ নেন।

পর্যটন সেলের ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ জানান, মৃত তিমিটির দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ৫০ ফুট। এটির সারা শরীর সাগরে মাছ ধরার জালে মোড়ানো। ধারণা করা হচ্ছে, জালে আটকে পড়ার পর জেলেদের আক্রমণের শিকার হয়ে তিমিটি মারা গেছে। বেশ কিছুদিন আগে মারা যাওয়ায় পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। দুর্গন্ধে সায়মন বিচ এলাকায় দাঁড়ানো কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছিল। পরে রাত ৩টার দিকে পৌরসভার সহযোগিতায় এস্কেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে আটকে পড়া স্থানের পাশেই বালিচাপা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বোরি) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ও সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর জানান, এর আগে ২০২১ সালের ৯ ০ ১০ এপ্রিল সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে দুটি মৃত তিমি ভেসে এসেছিল। তিমিগুলো ছিল ব্রাইডস প্রজাতির। মঙ্গলবার ভেসে আসা তিমিও একই প্রজাতির।

আরও পড়ুন: কক্সবাজার সৈকতে ভাসছে বিশাল মৃত তিমি

তিমিটি অন্তত এক সপ্তাহ আগেই মারা গেছে বলে মনে করেন বোরির সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম।

কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে প্রায়ই নানা সামুদ্রিক প্রাণীর মরদেহ এবং জৈব-অজৈব বর্জ্য ভেসে আসে। গত তিনমাসে ভেসে এসেছে শত শত মরা রাজকাঁকড়া, জেলিফিশ, কচ্ছপ ও ডলফিনসহ নানা প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী।

বিশ্বে প্রতিবছর যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়, তার ৯০ শতাংশই কমিয়ে দেয় সমুদ্রে থাকা ফাইটোপ্লাংক্টন; যা এক ধরনের ক্ষুদ্র সবুজ উদ্ভিদ। এরা প্রতি বছর দুই বিলিয়ন টন কার্বন নিঃসরণ কমায়। ফাইটোপ্লাংক্টন সামুদ্রিক প্রাণীদের জন্যও একটি পুষ্টিকর খাদ্য। কিন্তু এ বিপুল পরিমাণ ফাইটোপ্লাংক্টন সমুদ্রের উপরিস্তরে তাদের জীবনচক্র শেষ করার পর তাদের দেহাবশেষ সাগরের তলদেশে গিয়ে জমা হয়।

তিমিরা সাগরের তলদেশে জমাকৃত এ অব্যবহৃত পুষ্টিকে পুনরায় উপরিস্তরে নিয়ে এসে সামুদ্রিক প্রাণীদের জন্য খাদ্যের জোগান তৈরি করে। তিমিদের এ কার্যক্রম ‘হোয়েল পাম্পিং’ নামে পরিচিত।

সায়ীদ আলমগীর/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।