নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, সাংবাদিক লাঞ্ছিত
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের তিন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনার চিত্র ধারণ করতে গেলে লাঞ্ছিত করা হয় সাংবাদিকদের। তাদের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
শুক্রবার (১৪ জুলাই) রাতে শহরের কলেজ রোড এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম রাজীব, তার আত্মীয় ও ছাত্রদল কর্মী কাজল, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি অনিক এবং তার বন্ধু সোহাগ। আহতদের মধ্যে আজিজুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রাতে শহরের কলেজ রোড এলাকা দুই ছেলেকে মারধর করতে থাকেন ছাত্রলীগের ৩০-৪০ জন নেতাকর্মীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ। পরবর্তী সময়ে দুজনের মধ্যে একজন দৌড়ে প্রাণ বাঁচান। ঘটনার কিছুক্ষণ পরই হাজির হন রাজীব ও কাজল। এসময় তাদেরও বেধড়ক মারধর করা হয়। লাঠিসোটা, বাঁশ, ইট দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয় রাজীবের মুখ। খবর পেয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থিত হলে রাজীব ও কাজলকে ডাক বাংলোর ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

ঘটনার চিত্র ধারণ করতে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হন মহানগর ও কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীরা। এসময় জাগো নিউজের প্রতিনিধি মোবাশ্বির শ্রাবণকে মারধর ও আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি সাবিত আল হাসানের মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিএনপির নেতারা ইজিবাইকে করে আহত ছাত্রদল নেতাকে হাসপাতালে নিতে চাইলে পুনরায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের সামনেই তাদের মারধর করেন। লাঞ্ছিত করা হয় মহানগর বিএনপির যুগ্ম- আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনুকে।
অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশে খবর দেয় বিএনপি নেতারা। পরে সদর থানাপুলিশের একটি টিম এসে রাজীব ও কাজলকে উদ্ধার করে প্রথমে থানায় ও পরে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা রাজীব আমাকে জানায় ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে মারধর করে ফেলে রেখেছে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে রাজীবকে ডাক বাংলোর এক পাশে নিয়ে যাই। তাকে অটোরিকশায় তুলতে গেলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা পুনরায় মারধর করে। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে উদ্ধার করে। ছাত্রলীগের নেতা রিয়াদের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে।’
তিনি বলেন, আমরা মনে করি যুক্তরাষ্ট্রে শামীম ওসমানকে হেনস্তা করার প্রতিশোধ নিতেই অতর্কিতভাবে ছাত্রদলের নেতাদের ওপর হামলা করেছেন রিয়াদ ও তার অনুসারীরা।
ছাত্রদলের ওপর হামলার বিষয়ে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ বলেন, ‘তারা এখানে প্রায়ই ছিনতাই করেন। কলেজের ছাত্রদের ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিন। আজ তাদের হাতেনাতে ধরে এলাকাবাসী ও কলেজের ছাত্ররা মারধর করেছে।’
তবে সাংবাদিকের ওপর আক্রমণের বিষয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভিড়ের ভেতর হয়তো না চিনে ছাত্রলীগের কোনো কর্মী এ ভুল করেছে। তারপরও সাংবাদিকের ওপর হাত তোলার বিচার আমি করবো। আমরা এটার জন্য লজ্জিত ও দুঃখপ্রকাশ করছি।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান মোল্লা বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলছে। কে কাকে মেরেছে এবং ঘটনাটা কী তা এখনো আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। বিষয়টি জেনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসআর