সিলেটে পরিত্যক্ত ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস


প্রকাশিত: ১১:০১ এএম, ২০ মার্চ ২০১৬

সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) ২০০৫ সালে নগরীর ৩০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আখ্যা দিয়ে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ওই ৩০টি ভবনের তালিকায় রয়েছে সিলেট সমবায় ব্যাংক ভবন, মাহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, কাস্টমস ও ভ্যাট অফিস ভবন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এসএ রেকর্ড অফিস, স্কুল-কলেজ ও বিপনি বিতানও।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা করেই যেন শেষ সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম। এগুলো অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেই সিসিকের। ফলে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে ওই ভবনগুলোতে দাফতরিক কার্যক্রম ও বসবাস অব্যাহত রয়েছে। যে কোনো সময়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

শুধু নোটিস আর লাল রঙের একটি ব্যানার ভবনে সাঁটানোই যেন দায়িত্ব শেষ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট কালেক্টর ভবন-৩ এ সাঁটানো একটি ব্যানারে লেখা রয়েছে, অধিদফতর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করা হইল। নির্দেশ ক্রমে নির্বাহী প্রকৌশলী সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

তালিকাভুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি ভবন হচ্ছে, কালেক্টরেট ভবন-৩, জেল রোডস্থ সমবায় ব্যাংক ভবন, মাহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, জিন্দাবাজারস্থ কাস্টমস ও ভ্যাট অফিস ভবন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এসএ রেকর্ড অফিস, সুরমা মার্কেট, বন্দরবাজারস্থ সিটি সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজারস্থ রহমান প্লাজা ও মিতালী ম্যানশন, মিরাবাজারস্থ সিলেট মডেল স্কুল ও কলেজ, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কারিগরি ইনস্টিটিউট, সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মদিনা মার্কেটের পেছনের কয়েকটি বাসা (তালিকা বাসার নম্বর বা সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি)।

এছাড়া দরগাহ গেইট এলাকার আজমীর হোটেল ও মাহমুদ কমপ্লেক্সের পেছনের বাসা, শেখঘাট পুরাতন পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন বাসা, মদনমোহন কলেজের নবনির্মিত ভবন, মধুবন মার্কেট, পূর্ব শাহী ঈদগাহস্থ অনামিকা এ/৭০ (খান কুঞ্জ), ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কালাশীল এলাকার মান্নান ভিউ, বন্দরবাজারের সিটি সুপার মার্কেট, শেখঘাটের শুভেচ্ছা-২২৬ নম্বর বাসা, চৌকিদেখির ৫১/৩ সরকার ভবন, যতরপুরের নবপুষ্প ২৬/এ, জিন্দাবাজারস্থ রাজা ম্যানশন, ভাতালিয়ার ১১৮-সীমানা দেওয়াল, পুরান লেনের শফিকুল হকের ৪/এ কিবরিয়া লজ, দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলায় সিদ্দিক আলীর বাবর ট্রাভেলস ও খারপাড়ায় মিতালী-৭৪ নম্বর বাসা।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জাগো নিউজকে জানান, ২০০৫ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীদের দিয়ে সিসিক এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা করা হয়। তারা আমাদের ৩০টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে দেন। এরপর আমরা ওইসব ভবন মালিকদের নোটিস করি।
 
তিনি আরো বলেন, তারা ভবন সংস্কার কিংবা অপসারণ কোনোটি না করায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ লিখে ব্যানার টানিয়ে দেয়। এরপর ব্যানারও তারা খুলে ফেলে। আমরা শিগগিরই এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নুর আজিজ বলেন, স্থাপনাগুলো খালি ও ভেঙে ফেলতে আমরা সকলকে নোটিস পাঠিয়েছি। কেউ কেউ সময় চেয়েছেন। অনেকে সময় পার হওয়ার পরও ভবন খালি করেননি। আমরা কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার। আমরা ব্যবস্থা নিতেই ব্যানার টানাই। ভবন মালিকেরা ব্যানার টানানোর পর আমাদের উল্টো উকিল নোটিস পাঠিয়ে দেন। কোনো কোনো ভবন মালিক ব্যানার খুলে ফেলেন। আমরা শিগগিরই সিটি সুপার মার্কেট অপসারণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

এ ব্যাপারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর ও প্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম জাগো নিউজকে বলেন, সিলেটের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বসবাসকারীদের সরে যাওয়া প্রয়োজন। আমরা যে ভবনগুলো সিটি কর্পোরেশনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে দিয়েছি সেগুলো মোটেও নিরাপদ নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলেটে আগামী ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্পের আশঙ্কা নেই। আর যদিও ওই সময়ের মধ্যে ভূমিকম্প হয়, তাহলে ৫ থেকে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর সিলেটের উপ-পরিচালক সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, সিলেটে ভূমিকম্প হলে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে হবে। কারণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছেন। তাই দুর্যোগ মোকাবেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রস্তুতিও থাকার প্রয়োজন।

সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. জাবেদ আহমদ তারেক বলেন, মহানগরীর ৮০ ভাগ ভবন অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের শতভাগ আইন মেনে একটি ভবনও শহরে নির্মাণ করা হয়নি। আর এজন্য ভূমিকম্পে ভবন ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। ফায়ার সার্ভিসের ২৯টি নিয়মের সবকটি না মানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

ছামির মাহমুদ/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।