শ্রীমঙ্গলে চৈত্রমাসে বন্যা : দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ
বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন গ্রাম ও আবাসিক এলাকার বাড়ি-ঘরসহ রাস্তাঘাট। ডুবে গেছে শত শত পুকুরসহ হাজার হাজার একর বোরো ফসলের মাঠ। আর অসময়ে বন্যার আগমন দেখে হতবম্ব হয়ে পড়েছেন সাধারণ জনগন। অনেকেরই উনুনে পানি উঠায় সকাল থেকে ঘরে জ্বলেনি আগুন। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বের হতে পারছেন না ঘর থেকেও।
রোববার রাত থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। রাতের খাবার খেয়ে সবাই আরামে ঘুমিয়ে পড়লেও সকালে ঘুম থেকে অনেকের চোখ সাদা হয়ে যায়। চোখের সামনে ভাসতে দেখেন ঘরের জিনিশ পত্র। এ দৃশ্যে হতবাক সবাই। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহারী ঢলের পানিতে তলিয়ে যায় তাদের ঘর বাড়ি রাস্তাঘাট। তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর বোরো ফসল। আর পুকুর ও ফিশারির পাড় ডুবে বের হয়ে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ।
এদিকে চৈত্রমাসে যেখানে মানুষ পানির জন্য হাহাকার করে সেখানে পানিতে তলিয়ে যাবে বাড়িঘর রাস্তাঘাট তা ভাবতেই পারছেন না এ এলাকার মানুষ। তবে এই ফ্লাস ফ্লাডের কারণ হিসেবে এলাকাবাসী দোষারোপ করলেন নদী ও বৃষ্টির পানি হাওড়ে নামার পথে অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ এবং পাহাড়ি ছড়ার পাড় দখলকে।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় জানান, দুইশ বছরের ইতিহাসে তাদের বাড়িতে এই প্রথম পানি উঠেছে। তাও চৈত্রমাসে।
শ্রীমঙ্গল সবুজবাগ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা রজত শুভ্র চক্রবর্ত্তী, উত্তম দেব নাথ ও রাজীব আলী জানান, সারা জীবনেও বাড়ি ঘরে এতো পানি উঠতে দেখেননি তারা।
তারা জানান, এ পানির স্রোতে রাতে তাদের এলাকায় প্রায় ২০টি স্পটে নদীর পাড় ও চলাচলের রাস্তা সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে।
শ্রীমঙ্গলের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. নুরুল হুদা জানান, বিভিন্ন এলাকায় এই ফ্লাস ফ্লাডে ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ তার কাছে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চিহ্নিত করে তাদের সাহায্য দেয়া হবে।
এফএ/পিআর