ভিটার অংশে পুকুর কাটলেন ক্রেতা, হুমকিতে বিক্রেতার বাড়ি
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে একটি ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রির দোকানে চাকরি করে সংসার চালান শেখ আহমেদ (২৮)। তিনি পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হলদ্যাশিয়া এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে। মা-বোনকে নিয়ে সংসার। বোনের বিয়ের খরচ মেটাতে নিরুপায় হয়ে ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আহমেদ তাদের বাড়ির সামনের খালি অংশের সাড়ে ৯ শতক জমি একই এলাকার প্রভাবশালী নুরুল ইসলাম (৪৭) নামের কাছে বিক্রি করেন। আশা ছিল সেখানে নুরুল ইসলাম বাড়ি করলেও শেখ আহমদ ও অন্য পরিবারগুলো যাতায়াতে সমস্যা হবে না।
কিন্তু জমিটি দখলে নিয়ে বছর পার না হতেই ওই অংশ ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুরে রূপান্তর করে ফেলেছেন নুরুল ইসলাম। এতে চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন শেখ আহমেদসহ আরও পাঁচটি বাড়িতে বসবাসকারীরা। বৃষ্টিতে ওই পুকুরে বাড়ি ধসের আশঙ্কা করছেন তারা।
এ অবস্থায় গত ৯ জুন বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের কাছে অভিযোগ করেজেন শেখ আহমেদ। সেখানে ভেকু দিয়ে ভিটা খনন করে চারপাশের ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে শেখ আহমেদ লিখেছেন, ‘আমার ভিটাটি পাহাড়ি টিলা। চারপাশে আমারসহ ৫-৬টি বসতবাড়ি রয়েছে। বোনের বিয়ের ব্যয় মেটাতে নিরূপায় হয়ে প্রতিবেশী নুরুল ইসলামকে সাড়ে ২৭ কড়া ভিটার জমি বিক্রি করেছিলাম। কেনার এক বছরের মাথায় তিনি আইনের কোনো নিয়ম-কানুন না মেনে টিলাটি কেটে পুকুরে পরিণত করেন। আশপাশের ঘরবাড়িতে যাতায়াতকারী মানুষের চলাচলের রাস্তাও খনন করে ফেলা হয়েছে। এতে বাসাবাড়ির মানুষগুলোর নিয়মিত চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে কথা বললে উল্টো হুমকি দেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জমির ক্রেতা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বসতঘর আছে। আমার বড় মেয়েকে এখানে ঘর করে দিতে মাটি কিছুটা কেটেছি। পুকুর করিনি।’
সরকারের অনুমতি ছাড়া এভাবে পাহাড় বা টিলা কাটা আইনসিদ্ধ কি না, ভিটার অংশ কিনে একাধিক পরিবারের চলাচলের পথ খনন করা কতটুকু যৌক্তিক—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ওটা আবার ভরাট করে দিয়েছি।’
বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক শোভন কুমার সাহা বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি কসাই। আমার টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বাঁশ-গাছ দিয়ে ওয়াল বানিয়ে নির্দেশনা দিয়ে এসেছিল। এরপর কী হয়েছে জানি না। মাটি কাটার সময় জানলে তা রদ করা যেতো।’
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘এমনটি হয়ে থাকলে বিষয়টি অমানবিক। তবে, এ-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ আমার দপ্তরে আসেনি। এরপরও বুধবার ঘটনাস্থলে যাবো।’
সায়ীদ আলমগীর/এসআর/এএসএম