গভর্নর

ব্যাংকিং সংস্কার অব্যাহত থাকবে, অগ্রাধিকার পাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৫৭ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর/ ফাইল ছবি

 

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চলমান ব্যাংকিং সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং একীভূত ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত কয়েক মাসে নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। গভর্নর বলেন, আমরা কী কী সংস্কার করছি, তার একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফ অর্থমন্ত্রীকে দিয়েছি। তিনি এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি খুবই ইতিবাচক।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে গভর্নর জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। ইনফ্লেশন তো কমাতেই হবে—এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। বাজারে অতিরিক্ত তারল্য নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় এবং মুদ্রানীতিতে কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা চলছে।

খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোরতা

খেলাপি ঋণ কমানো নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। গভর্নর জানান, বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদার, ঋণ পুনর্গঠন নীতিমালা কঠোর করা, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের চিহ্নিত করা এবং ব্যাংকগুলোর শ্রেণীকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, ব্যাংকারদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, নেওয়া পদক্ষেপগুলো কাজ করতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে ঋণপ্রবাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

একীভূত পাঁচ ব্যাংক প্রসঙ্গ 

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকসহ একীভূত পাঁচ ব্যাংকের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গভর্নর বলেন, একীভূত হওয়ার পর এসব ব্যাংককে স্থিতিশীল রাখা এখন প্রধান লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আমানত পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। পুরোনো আমানতকারীরা টাকা পাচ্ছেন এবং নতুন আমানতও আসছে।

নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছিল, তবে সম্ভাব্য প্রার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়েছে। নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক ও পরিচালনা পর্ষদ সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনে বোর্ডের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে- বলেন আহসান এইচ মনসুর।

এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে।

অনিয়মের প্রেক্ষাপটে সংস্কার

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আর্থিক খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে ঋণ কেলেঙ্কারি, অর্থ পাচার, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন এবং তদারকির দুর্বলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা ছিল। 

এ প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে একাধিক সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ব্যাংক একীভূতকরণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি জোরদার, বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং তারল্য সহায়তা—এমন নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। 

তবে স্বল্প সময়ের কারণে সব উদ্যোগ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। চলমান এসব সংস্কার কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন এবং আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ও আস্থা পুনর্গঠনের দায়িত্ব এখন নবগঠিত বিএনপি সরকারের ওপর বর্তেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সুশাসন জোরদার, মূলধন ঘাটতি কমানো, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ হ্রাস, তারল্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং তদারকি বাড়ানো—এসবই চলমান সংস্কারের অংশ। 

এমএএস/কেএইচকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।