ব্যাংক-এমএফএস কোম্পানিতে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৫৯ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংক, ফাইল ছবি

নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১৬ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংক, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে এই ইউনিট স্থাপনের নির্দেশনা দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে এসব প্রতিষ্ঠানে পৃথক ইউনিট গঠন করতে হবে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে ইউনিটটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন পেমেন্ট সিস্টেম কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা। আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের এক ধাপ নিচের কর্মকর্তা ইউনিটটির তত্ত্বাবধানে থাকবেন।

ইউনিট প্রধান ছাড়াও ব্যাংকের ক্ষেত্রে কমপক্ষে চারজন কর্মকর্তা এবং এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুজন কর্মকর্তাকে এই ইউনিটে নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে উপমহাব্যবস্থাপক বা সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুই ধাপ নিচের একজন কর্মকর্তা ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবেন।

সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন প্রস্তুতির জন্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার বা সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে সহকারী ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে। আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তিন ধাপ নিচের কর্মকর্তা এ দায়িত্ব পালন করবেন।

ইউনিটের প্রধান কাজ
ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিটকে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে বাংলা কিউআর, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), অনলাইন ও কার্ড পেমেন্ট সম্প্রসারণ, দেশব্যাপী বাংলা কিউআর চ্যানেলে মার্চেন্ট অনবোর্ডিং জোরদার করা এবং শাখা পর্যায়ে গ্রাহক নিবন্ধন কার্যক্রম তদারকি করা।

এছাড়া কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা, ডিজিটাল লেনদেন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গ্রাহক সুরক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালী করাসহ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাজও এই ইউনিটের আওতায় থাকবে। একই সঙ্গে সাপ্লাই চেইনভিত্তিক পেমেন্ট মডেল উদ্ভাবন ও বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও বাণিজ্য সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করার কথাও সার্কুলারে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রতি বছর একটি স্বতন্ত্র প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করতে হবে। প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট কার্যবিবরণী প্রতি বছরের মার্চ মাসের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে।

আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠন করে ইউনিটসংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।

ইএআর/এমএমএআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।