বাণিজ্য মেলায় রেকর্ড টিকিট বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৬ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮

দেখতে দেখতে ১৯ দিনে পা দিয়েছে ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। প্রথমদিকে ক্রেতা-দর্শনার্থীর কিছুটা খরা থাকলেও ১৯তম দিন শুক্রবার বাণিজ্য মেলা টইটুম্বর হয়ে পড়ে। মেলা প্রাঙ্গণের কোথাও তিল ধরাণের জায়গা নেই বললেও ভুল হবে না।

ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ঢল সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মেলার গেটের দায়িত্বে থাকাদের পাশাপাশি অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের। সন্ধ্যা ৬টার আগেই টিকিট কেটে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন লক্ষাধিক দর্শনার্থী। তখনও মেলায় প্রবেশের জন্য টিকিট কাটার লাইনে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ অপেক্ষায় থাকেন।

এর আগে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাতে একদিনে টিকিট কেটে এতো দর্শনার্থী প্রবেশ করেনি বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন মেলা মাঠের ইজারাদার মীর শহিদুল।

তিনি বলে, গতবছর একদিনে সর্বোচ্চ এক লাখ ৭৫ হাজার দর্শনার্থী মেলায় প্রবেশ করেন। এবার সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে। বিকাল সাড়ে ৫টার মধ্যেই এক লাখের ওপরে দর্শনার্থী মেলায় প্রবেশ করেছে। এর আগে কোনোদিন বিকাল সাড়ে ৫টার মধ্যে এক লাখ দর্শনার্থী মেলায় প্রবেশ করেনি। আজ সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রি হবে বলে আমরা আশা করছি।

এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, মেলার ভিতরে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে সামনে পা ফেলে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। মেলার কোথাও বিন্দুমাত্র জায়গা নেই। শুধু মেলা প্রাঙ্গণ নয় দর্শনার্থীদের সেই ঢল রয়েছে গেটের বহিরেও। গেটের বাহিরে হাজার হাজার দর্শনার্থী মেলায় প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।

trade1

এদিকে দর্শনার্থীদের ঢলে আগারগাঁও শেরেবাংলা নগর অঞ্চলের সব রাস্তায় দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। বিজয় সরণী হয়ে ফার্মগেট-কারওয়ান বাজার, র‌্যাংগস ভবনের সামনে দিয়ে সাতরাস্তা পর্যন্ত দেখা দিয়েছে যানজট। অনেকে যানজট ঠেলে মেলার সামনে আসতে পারলেও পার্কিংয়ে গাড়ির জায়গা হয়নি। ফলে যানজটের দুর্ভোগ ঠেলে মেলা গেটে এসে আরও দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

মেলা মাঠের ইজারাদার মীর শহিদুল বলেন, এবার প্রথমদিকে দর্শনার্থী অনেক কম এসেছে। মেলার প্রথম ১৮ দিন টিকিট কেটে পাঁচ লাখের মতো দর্শনার্থী প্রবেশ করে। যা আগের বছরের তুলনায় অনেক কম। আজই প্রথম মেলায় লাখের ওপরে দর্শনার্থী এসেছে। এর আগের দুই শুক্রবার এক লাখের কম দর্শনার্থী প্রবেশ করে। আমরা আশা করছি সামনে দর্শনার্থী আরও বাড়বে।

যাত্রাবাড়ি থেকে পরিবারসহ মোটরসাইকেলে করে মেলায় আসেন মো. রবিউল ইসলাম। তবে মোটারসাইকেল পার্কিং করতে গিয়ে পড়েন বিড়ম্বনায়। প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করেও বাইক পার্কিং করতে ব্যর্থ হন। ফলে মেলায় প্রবেশ না করেই ফিরে যান রবিউল।

তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ি থেকে কারওয়ানবাজারে আসতে ১৫ মিনিটের মতো লেগেছে। আর বাকি রাস্তাটুকু আসতে লেগেছে প্রায় দেড় ঘণ্টা। যানজট ঠেলে এসেও মেলায় প্রবেশ করতে পারছি না। কারণ গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়েই ফিরে যাচ্ছি।

মিরপুর থেকে আসা মো. ইমন বলেন, মেলার টিকিট কাউন্টারের লাইনে দাঁড়ায় বিকাল ৩টায়। টিকিট পেতে প্রায় আধাঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। মেলায় প্রবেশ করতে ৪টা বেজে গেছে। মেলায় প্রবেশ করে দেখি বেশিরভাগ অঞ্চলেই দর্শনার্থীতে ভরে গেছে। একজন আর একজনের সঙ্গে ঠেলাঠেলি ছাড়া মেলায় হাঁটা যাচ্ছে না। গত বছর তিন শুক্রবার মেলায় এসেছি। এতো ভিড় দেখিনি।

এমএএস/এএইচ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :