অনিশ্চয়তায় বিমানের গুয়াংজু রুট

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৮ এএম, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮

চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর গুয়াংজুতে মার্চের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। চার মাস আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ ২৫ মার্চ এই রুটটি চালুর ঘোষণা দিয়েছিল। সময়ের সেই তোড়জোড় থেমে গেছে। গুয়াংজু রুট চালুর বিষয়ে এখন আর বিমানের কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে চান না।

নিয়মানুযায়ী আন্তর্জাতিক কোনো রুট চালুর কমপক্ষে তিন মাস আগে জেনারেল সেলস এজেন্ট-জিএসএ নিয়োগ দেয়া এবং স্লট বরাদ্ধ পাওয়ার কথা থাকলেও কোনোটিই করা হয়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন্সের ব্যর্থতার মধ্যেই একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স গুয়াংজু রুট চালুর যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হজ ফ্লাইটের প্রাক-প্রস্তুতি এবং উড়োজাহাজ সংকটের কারণে বিমানের গুয়াংজু রুট চালুর বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বছরের শেষে বিমান বহরে বোয়িং থেকে আসা ড্রিমলাইনারের সংযোজন না ঘটার অাগে এই রুট চালুর কোনো সম্ভাবনা নাই।

ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। দেশটি থেকে বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের নিয়মিত আসা-যাওয়া রয়েছে চীনে। তাই দেশটির সাথে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালুর দাবিও দীর্ঘদিনের। আকাশ পথে ঢাকা-গুয়াংজু রুট চালু হলে যাত্রীর পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও এই রুটে উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দেবে।

বাংলাদেশ বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের আমদানি-রফতানির ভলিয়ম বিশাল। এই দিক বিবেচনা করে আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে চীনের গুয়াংজুতে ফ্লাইট পরিচালনার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এটি যেহেতু হজের মতো স্পর্শকাতর ইস্যু নয় সে কারণে বিমান হজযাত্রীদের সেবাকে অধিকতর প্রাধান্য দিচ্ছে। তাই প্রতিবছরের মতো এবারের আসন্ন হজে বিমান তার কমিটমেন্ট মতো হজযাত্রীদের পাশে থাকবে। এজন্য গুয়াংজু রুট চালুর কথা থাকলেও কিছুটা সময় লাগবে। তবে যেকোনো সময় বিমানের গুয়াংজু রুট চালু হতে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির দুটি নতুন উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। উড়োজাহাজ দুটির মূল্য পরিশোধে ২৫ কোটি ডলার বাণিজ্যিক ঋণও নিতে যাচ্ছে বিমান।

আরএম/এআরএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :