মার্কোসারের সম্মেলনে এফটিএ চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫০ পিএম, ২২ আগস্ট ২০১৯
ফাইল ছবি

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি বাড়াতে ব্রাজিল সরকার এবং দেশটির আমদানিকারকদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) করা হলে ব্রাজিলের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রফতানি বাড়বে। মার্কোসারের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) উপস্থাপন করা হলে তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে বলে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার (১৯ আগস্ট) দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট মার্কোসার (ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের সমন্বয়ে গঠিত বাণিজ্যিক জোট) সফরের প্রথম পর্যায়ের প্রথম দিন ব্রাজিলের বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বৈদেশিক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে এসব কথা বলেন টিপু মুনশি। এ দিন তিনি ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ উপমন্ত্রী, ব্রাজিল কটন অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ইন্ডাষ্ট্রি সিএনআই এর বৈঠক করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রাজিলের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ঔষধসহ বিভিন্ন পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে ব্রাজিলে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ বাংলাদেশ। ব্রাজিলের আমদানি শুল্ক বেশি হওয়ায় প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্য রফতানি সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ব্যবধান বেড়েই চলেছে।

টিপু মুনশি বলেন, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্রাজিলে ১৭৬.৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মল্যের পণ্য রফতানি করেছে। একই সময়ে আমদানি করেছে ১৫২০.৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। এ বাণিজ্য ব্যবধান কমানোর জন্য ব্রাজিলের উচ্চ আমদানি শুল্কহার কমানো প্রয়োজন।

ব্রাজিলের বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ করে তৈরি পোশাক আমদানির ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্কহার কমানোর আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে একমত পোষণ করেন।

এ বছর অনুষ্ঠিতব্য মার্কোসারের শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি(এফটিএ) উপস্থাপনের জন্য আশ্বাস প্রদান করা হয়। এছাড়া, উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য কনসেপ্ট নোট বিনিময়ের সিদ্ধান্ত হয়।

তুলা উৎপাদনকারী অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠকে ব্রাজিল থেকে উন্নতমানের তুলা আমদানির আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ওই তুলা দিয়ে প্রস্তত তৈরি পোশাকের উপর শুল্ক হ্রাস ও অধিক আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য ব্রাজিলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। তুলা উৎপাদনকারী অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশি একটি ওয়্যারহাউস স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যাতে কম সময়ে তুলা পাঠানো যায়।

ব্রাজিল ন্যাশনাল কনফেডারেশন অব ইন্ডাস্ট্রির সাথে সভায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনা হয়। উভয় দেশের মধ্যে মডেল বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া, উক্ত সংস্থা বাংলাদেশে কারিগরি জনশক্তি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য ব্রাজিল আগ্রহ প্রকাশ করেছে। উক্ত সভায় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সম্ভাবনা ও সাফল্য বিষয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনা করা হয়।

মারকোসাভুক্ত দেশসমূহের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা ও বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টিতে আলোচনার জন্য সফরে আছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গত ১৭ আগস্ট ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। আগামী ২৫ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রীর দেশা ফেরার কথা রয়েছে।

এমইউএইচ/এমএসএইচ/জেআইএম