পেঁয়াজ ৮০ টাকাই, ‘সয়ে গেছে মানুষের’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২০ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে- সরকারের পক্ষ থেকে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা হলেও, রাজধানীর বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম কমেনি। গত কয়েক দিনের মতো এখনও চড়া দামেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। বাজার ও মানভেদে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকা এবং আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা কেজি।

বুধবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ ও খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে চলতি সপ্তাহের রোববার থেকে রাজধানীর বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম এক লাফে প্রায় দ্বিগুণ হয়।

শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে যে পেঁয়াজের কেজি ৫৫ টাকা ছিল, রোববার তা এক লাফে ৭৫-৮০ টাকা হয়ে যায়। পেঁয়াজের এমন দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) থেকে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

মঙ্গলবারের ধারাবাহিকতায় বুধবারও স্বল্প পরিসরে রাজধানীর খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি অব্যাহত রেখেছে টিসিবি। গতকালের মতো আজও রাজধানীর পাঁচটি স্পটে এ কার্যক্রম চলছে। টিসিবির আওতায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারছেন।

খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রির পাশাপাশি মঙ্গলবার পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে করণীয় ঠিক করতে সরকারি বিভিন্ন দফতর, পেঁয়াজের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বৈঠকের পর নতুন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন এবং বাংলাদেশ ট‍্যারিফ কমিশনের সদস্য আবু রায়হান আল বিরুনি ঘোষণা দেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমবে।

সরকারের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা আসা এবং খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করা হলেও রাজধানীর বাজারগুলোতে কমেনি পেঁয়াজের দাম। গত কয়েক দিনের মতো ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা কেজি। নিম্নমানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৫-৭০ টাকা। আমদানি করা দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা কেজি।

পেঁয়াজের দাম না কমার কারণ হিসেবে রামপুরার ব্যবসায়ী জামাল বলেন, সচিব ঘোষণা দিলেই তো পেঁয়াজের দাম কমে যাবে না। আমরা কম দামে কিনতে না পারলে, কম দামে কীভাবে বিক্রি করবো। গত কয়েক দিনের মতো আজও পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম বেশি। পাইকারিতে দাম কমলে, আমরাও কম দামে বিক্রি করব।

এই ব্যবসায়ী বলেন, ভালো মানের বাছাই করা দেশি পেঁয়াজ শুক্রবার ৫৫ টাকা বিক্রি করেছি। এখন বিক্রি করছি ৮০ টাকায়। এরপরও বিক্রি কমেনি। আসলে পেঁয়াজের বাড়তি দাম মানুষের সয়ে গেছে। দাম যত হোক মানুষ পেঁয়াজ কিনবেই। গত বছর পেঁয়াজের কেজি ১২০ টাকা হলেও বিক্রি থেমে ছিল না। বরং দাম আরও বাড়তে পারে এমন শঙ্কায় মানুষ আরও বেশি কেনে। তবে এবারের ভাবগতি যা তাতে মনে হচ্ছে, এ বছর পেঁয়াজের দাম আর কমবে না।

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মিলন বলেন, খুচরা বিক্রেতাদের কাছে এখনও আগের কেনা পেঁয়াজ রয়েছে। তাছাড়া পাইকারিতেও পেঁয়াজের দাম কমেনি। যে কারণে আজও গত কয়েক দিনের দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তবে সরকার কঠোর হলে কয়েক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে যেতে পারে। পেঁয়াজের দাম কমা ছাড়া নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা নেই বলে আমাদের মনে হচ্ছে।

কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী খায়রুল বলেন, পেঁয়াজ গতকালের দামেই বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে দাম বাড়েনি, আবার কমেওনি। আমরা যা আভাস পাচ্ছি তাতে বুঝতে পারছি এবার পেঁয়াজের দাম গত বছরের মতো হবে না। বরং কিছুদিনের মধ্যেই দাম কমে যাবে।

রামপুরার বাসিন্দা মহিউদ্দিন বলেন, শুক্রবার বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখেছিলাম পেঁয়াজের কেজি ৫৫ টাকা। কয়েক মাস ধরেই পেঁয়াজের এই দাম। কিন্তু রোববার বাজারে গিয়ে দেখি পেঁয়াজের কেজি ৭৫ টাকা হয়েছে। পরে জানতে পারলাম ভারত পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় এমন দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, ভারত পেঁয়াজের দাম এখন বাড়িয়েছে, কিন্তু বাজারে যে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে তা তো আগেই আমদানি করা। তাহলে এই পেঁয়াজের দাম কেন বাড়বে? যারা মুনাফার লোভে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, সরকারের উচিত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। তাহলে দেখবেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা হরহামেশা ঘটবে না। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, প্রায় বিভিন্ন পণ্যের দাম হুটহাট বেড়ে যায়, এর বিরুদ্ধে কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয় না।

এমএএস/এমএসএইচ/এমকেএইচ