এসএমই ঋণ ৯ শতাংশের বাইরে রাখার দাবি ব্যাংক মালিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৬ এএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২০

আগামী জুলাই থেকেই সবধরনের ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশ এবং আমানতের সুদ ৬ শতাংশ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) ঋণের সুদহার ৯ শতাংশের বাহিরে রাখার দাবি জানিয়েছেন ব্যাংক মালিকরা।

সোমবার রাতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি এবং এমডিদের সংগঠন এবিবির সাথে বৈঠকে করে এ দাবি জানান। বৈঠকে এবিবির চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার এসএমই ঋণে সুদহার নয় শতাংশের বাহিরে রাখার দাবি জানান।

এ দাবির প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশ এবং আমানতের সুদ ৬ শতাংশ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর সরকার।

তিনি বলেন, একটার পর একটা সুবিধা পেলে ব্যাংক মালিকরা আবারো অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা চাইবে। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) ঋণের সুদহার নয় শতাংশের বাহিরে রাখা যায় কিনা সেটি প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণ ও আমানতে সুদহার ৯ ও ৬ শতাংশ বাস্তবায়নে যেন কোনো ব্যতয় না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। একই সঙ্গে এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে অনৈতিকভাবে গ্রাহক ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অপসংস্কৃতি বন্ধেরও নির্দেশ দেন তিনি।

ব্যাংকগুলো সেবা দিতে পারে না, খেলাপি ঋণ বেশি কেন তা নিয়ে বারবার সংসদে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ সংস্কৃতি থেকে বের হতে আগে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। কোটে খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত ৬৩ হাজার মামলা আছে। এ থেকে বের হতে হবে। ব্যাংকগুলোকে পরিচালন ব্যয় কমাতে হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত ৬ শতাংশের বেশি সুদে ব্যাংক খাতে যেন রাখতে না পারে সে বিষয়ে সংসদে আগামীকাল নিদের্শনা আসতে যাচ্ছে। সরকার এসব টাকা সরকারি কোষাগারে আনা হবে বলেও জানান তিনি।

যেসব উদ্যোক্তা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে তাদের সাহায্য করা হবে। সরকারের সামনে যে সম্পদ আছে তার পুরোপুরি ব্যবহার করা হবে। অর্থনীতির মূল স্রোতধারায় পিঁছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে এখন টানাপোড়েন চলছে। বিভিন্ন কারণে স্বাভাবিক অবস্থা নেই। অর্থনীতিতে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ আসলেও, আমার সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ নাই। কারণ এগুলো প্রতিটি এক একটা সুযোগ। বাংলাদেশিদের সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই।

পুঁজি বাজারের সাথে অর্থনীতির কোনো মিল নেই উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, মনে হয় যেন এটি বিছিন্ন দ্বীপ। বৈঠকে ব্যাংক মালিক ও এমডিদের পক্ষ থেকে দুটি বিষয়ে দাবি করা হয়। এর একটি হলো এসএমই ঋণকে নয় শতাংশের বাহিরে রাখা অন্যটি হলো সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানত ছয় শতাংশ সুদে নিশ্চিত করা। তাহলেই আগামী আগামী এপ্রিল মাস থেকে ব্যাংক আমানতে ৬ ও ঋণে ৯ শতাংশ সুদহার বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

তবে ব্যাংক মালিকরা ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদ ঋণ পুনঃ তফসিল করায় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের আদায়কে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত বলে বৈঠকে জানিয়েছেন।

এমইউএইচ/এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]