বিদেশি প্যাভিলিয়নে দেশি পণ্য, ঠকছেন ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২৯ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২০

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিদেশি প্যাভিলিয়নে পণ্য কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা দেশি পণ্যকে বিদেশি বলে চড়াদামে বিক্রি করছেন। অনেকে বিদেশি পণ্য মনে করে চড়াদামে তা কিনছেন। হরহামেশায় এমন প্রতারণার ঘটনা ঘটলেও মেলা আয়োজক কর্তৃপক্ষের চোখে পড়ছে না।

বাণিজ্য মেলার প্রধান গেট দিয়ে ঢোকার পর বাঁপাশে ‘পাকিস্তানি প্যাভিলিয়ন’। সেখানে আট থেকে ১০টি দোকান রয়েছে। সেসব দোকানে নারীদের রেডিমেট থ্রি-পিস, টুপিস, খুরতি, শাড়ি, ওড়না, প্রশাধনী, জুতাসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। অধিকাংশ দোকানে বিদেশি পণ্যের পাশাপাশি দেশি পণ্যের ছড়াছড়ি। আবার কেউ কেউ শুধুমাত্র দেশি পণ্য বিক্রি করছেন। তবে এই প্যাভিলিয়নের দুই-তিনটি দোকানে পাকিস্তানি শাল, চাদর ও বিভিন্ন পোশাক বিক্রি করতেও দেখা গেছে।

এই প্যাভিলিয়নে আসা নুসরাত নামে মিরপুরের এক নারীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বিদেশি প্যাভিলিয়নে দেশি পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। দেশি পণ্যকে বিদেশি বলে বিক্রি করছেন দোকানিরা।

Trade-Fair

তিনি বলেন, আমি একটি পাকিস্তানি থ্রি-পিস কিনেছি এই প্যাভিলিয়নে থেকে। কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখেছি, অনেকে দেশি থ্রি-পিস বিদেশি বলে দেখাচ্ছে।

পাশেই তৈরি করা হয়েছে ‘মালয়েশিয়া প্যাভিলিয়ন’। সেখানেও দেশি পণ্যের ছড়াছড়ি। ঢুকতেই একটি জুতার দোকান সামনে পড়ে। এ দোকানে জাহাঙ্গীর নামে একজন বিক্রেতা জানান, তারা দেশি-বিদেশি জুতা বিক্রি করছেন। মেলার শুরু থেকেই তাদের দোকানে দেশি-বিদেশি জুতা বিক্রি করা হচ্ছে।

Trade-Fair-3

তিনি জানান, মিরপুর-১১ নম্বরে তাদের দোকান রয়েছে। মেলায় দোকান নিতে অনেক ব্যয় হওয়ায় দোকানের চেয়ে একটু বেশি দামে জুতা বিক্রি করা হচ্ছে।

অপর পাশে ‘ইরানি প্যাভিলিয়ন’। তাতে রত্নপাথর, বোরকা, কসমেটিকস, প্রেশারকুকার, মসলা ইত্যাদি পণ্যে ভরপুর। প্রেশারকুকারের ব্র্যান্ড ‘কিয়াম’ নিজেদের আলাদা প্যাভিলিয়ন থাকার পরও ইরানি প্যাভিলিয়নে কিয়ামের পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

Trade-Fair-4

প্যাভিলিয়নের ভেতরেই কথা হয় মিরপুর-১১ থেকে প্রেশারকুকার কিনতে আসা পারভিন আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ইরানি পণ্য কেনার জন্য ঢুকে দেখি দেশি পণ্য। এটা প্রতারণা ও স্রেফ মানুষকে বিভ্রান্ত করার ফন্দি।

পাকিস্তানি পণ্য সম্ভারের পাশেই ‘ভারতীয় পণ্য সম্ভার’। বিভিন্ন ধরনের কাশ্মীরি শাল নিয়ে এসেছেন ভারতীয় নাগরিক খুরশিদ আহমেদ। শালের দাম ৪০০ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। খুরশিদ আহমেদ জানান, ভারতীয় প্যাভিলিয়নের ভেতরে তিনিই একমাত্র ভারতীয় পণ্য বিক্রি করছেন। অন্যরা বিভিন্ন দেশের পণ্য নিয়ে এসেছেন।

Trade-Fair-3

জানতে চাইলে মেলা আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব মো. আব্দুল রউফ জাগো নিউজকে বলেন, বিদেশি প্যাভিলিয়নে দেশি পণ্য বা এক দেশের নাম নিয়ে অন্য দেশের পণ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের চারটি টিম কাজ করছে। মেলার মধ্যে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এমএইচএম/বিএ/পিআর