তিন দেশ সংযোগকারী সাসেক প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২০ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২০
ফাইল ছবি

‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২: এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

সংশোধনীতে খরচ বাড়ানো হয়েছে ৪ হাজার ৭৬৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ফলে ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি ১ লাখ থেকে এখন এ প্রকল্পের খরচ বেড়ে দাঁড়াল ১৬ হাজার ৬৬২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তার মধ্যে সরকার দেবে ৫ হাজার ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ এবং বিদেশি ঋণ ১১ হাজার ৬২৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়ও বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৩ বছর। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালের আগস্টে। প্রথম সংশোধনীতে মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়কটির ১৯০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার রাস্তা চার লেনে উন্নীত হবে। দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। এছাড়া সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) করিডোর ৪ ও ৯, এশিয়ান হাইওয়ে-২, বিমসটেক-২ এবং সার্ক হাইওয়ে করিডোর-৪ এর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) একনেক সভা শেষে এ বিষয়ে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা ইতিহাস হওয়ার মতো একটি বিষয় যে, তিনটা দেশের প্রথম রাস্তা। শেখ হাসিনা প্রথমবার যখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, সেই সময় এটার ডিজাইন করা এবং সে সময় শুরু করা হয়। এটি বাংলাদেশের একমাত্র রাস্তা যেখানে ধীরগতির যানবাহনের একটা সাইড লেন আছে। আর যে নির্দেশনা উনি (প্রধানমন্ত্রী) দিয়েছেন, সেটা হলো রাস্তা তৈরির সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে পানির চলাচল কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্রিজ, কালভার্ট ও পানি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে রাস্তা এদিক-ওদিক করতে হবে। বিশেষ করে বিল, হাওর-বাওড়গুলো বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ এগুলো আমাদের লাইফ লাইন, এগুলো ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা করে, বিভিন্নভাবে পানি সরবরাহ করে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে তিনি এই নির্দেশনা দিয়েছেন।’

টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলা, সিরাজগঞ্জ জেলার সদর, কামারখন্দ, উল্লাপাড়া ও রায়গঞ্জ উপজেলা, বগুড়া জেলার সদর, শেরপুর, শাহাজানপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলা, গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাহপুর উপজেলা এবং রংপুর জেলার সদর, পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ভূমি অধিগ্রহণ ৩২৬ হেক্টর, মাটির কাজ ১২৭.০৪৩ লাখ ঘনমিটার, ধীরগতি সম্পন্ন গাড়ির লেনসহ নতুন পেভমেন্ট নির্মাণ ১৯০.৪০ কিলোমিটার (৬ লেন), ব্রিজ ১৭২৪ মিটার (৩২টি), ফ্লাইওভার ৩০৯০ মিটার (৬টি), রেলওয়ে ওভারপাস ৪৪৭ মিটার (২টি), কালভার্ট ১১০২ মিটার (১৮০টি), রিজিড পেভমেন্ট ৪৬ কিলোমিটার, আন্ডারপাস ২১৮৯ মিটার (৩৯টি), পদচারী সেতু (ওভারপাস) ৩৯৭ মিটার (১১টি), হাটিকামরুল ইন্টারচেঞ্জ (১টি) ১৫০০ মিটার, রিলোকেশন অব ইউটিলিটি, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের জন্য সড়ক গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ (১টি), ওভারলোড নিয়ন্ত্রণের জন্য এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন নির্মাণ ও স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থা স্থাপন (৩টি), কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন পরামর্শক সেবা (৪৯৪৫ জনমাস), এনজিও সার্ভিস (১৬৬৪ জনমাস), আউট সোর্সিং স্টাফ (৫৯৯৪ জনমাস) এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট জনবলের বেতন-ভাতাদি এ প্রকল্পের প্রধান কাজ।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী জমির ক্ষতিপূরণ তিনগুণ হারে নির্ধারিত হওয়ায় এবং হাটিকামরুল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত করায় ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ ১২৭ হেক্টর বৃদ্ধিসহ ভূমি অধিগ্রহণ খাতে মোট ২২৫৩.১৫৯৭ কোটি টাকা এবং রিসেটেলমন্টে খাতে ২২৬.৭০১২ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি।

মূল ডিপিপিতে হাটিকামরুল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের জন্য ধারণাগত ডিজাইন বাবদ ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে ডিটেইল্ড ডিজাইন ও ২০১৯ সালের সওজ অধিদফতরের সিডিউল অব রেটস্ অনুসারে হাটিকামরুল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণে ৪৪৮.৫৬ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের সড়ক গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণে ১৬৮.৩৪৫১ কোটি টাকা বৃদ্ধি এবং রোড অপারেশন ইউনিট নির্মাণে ১১১.৪৬৭৪ কোটি টাকা ব্যয় হ্রাস, সড়ক নির্মাণ কাজের মোট ৮টি প্যাকেজের মধ্যে চলমান ৭টি প্যাকেজের অনুমোদিত চুক্তি মূল্য ৪১৪৩.৫০ কোটি টাকা। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন অবকাঠামোর ডিজাইন সংশোধন ও কংক্রিট পেভমেন্ট অন্তর্ভুক্তির কারণে চলমান ৭টি প্যাকেজের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫৭৯৬.৩৫ কোটি টাকা, অর্থাৎ এ খাতে ১৬৫২.৮৫ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি।

সিসিজিপি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সড়ক নির্মাণ কাজের অবশিষ্ট প্যাকেজ নং-৫ এর প্রাক্কলন সওজ অধিদফতরের ২০১৯ সালের সিডিউল অব রেটস্ অনুসারে হালনাগাদ করায়, প্যাকেজ মূল্য মূল সংস্থানের চেয়ে ২৩৪.৯৪ কোটি টাকা বৃদ্ধি। প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণ প্যাকেজ নং-৫ এবং ইন্টারচেঞ্জ, সড়ক গবেষণাগার ও রোড অপারেশন ইউনিট নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ বাস্তবায়নের জন্য কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন পরামর্শক সেবা খাতে ১৩৩৪ জনমাস এবং এ খাতে ১৫৯.৫০৮৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে প্রাইস এডজাস্টমেন্ট খাতের সংস্থান ৩২১.৮৯ কোটি টাকা বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণ প্যাকেজ নং-৫ এবং ইন্টারচেঞ্জ, সড়ক গবেষণাগার ও রোড অপারেশন ইউনিট নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বিধায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদকাল ৩ বছর ৪ মাস বৃদ্ধি।

পিডি/এমএসএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]