‘মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে, অফিস-বাসার জন্য মিষ্টি কিনলাম’

যে কোনো খুশির সংবাদ উদযাপনের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ মিষ্টিমুখ করানো। খুশির উপলক্ষে মানুষ অন্যকে মিষ্টিমুখ করায়। আজ ১২ মে তেমনই খুশির মুহূর্ত হয়ে এসেছে শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে। মাধ্যমিকে ভালো ফলাফলের খুশির উপলক্ষ তারা ভাগাভাগি করছে পরিবার, স্বজন-বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে, করছে মিষ্টি বিতরণ। এর প্রভাবও পড়েছে মিষ্টির দোকানগুলোতে।
জানা গেছে, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রাজধানীর মিষ্টির দোকানগুলোতে ক্রেতার ভিড় বেড়েছে।
রোববার (১২ মে) দুপুরে মিরপুর, কাজীপাড়া, শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকার মিষ্টির দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, অভিভাবকরা সামর্থ্য অনুযায়ী মিষ্টি কিনছেন। এসএসসির ফলাফলকে কেন্দ্র করে অন্যদিনের তুলনায় বেশি মিষ্টান্ন সামগ্রী রাখা হয়েছে দোকানগুলোতে। রসগোল্লা, চমচম, কালোজামের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে আইসক্রিম ও দই।
রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা।
আরও পড়ুন
সকাল সোয়া ১০টায় গণভবনে ফলাফল হস্তান্তরের এ অনুষ্ঠান হয়। এতে মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে বেলা ১১টার পর সারাদেশে একযোগে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর ৯টি সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডে গড় পাসের হার ৮৩.০৪ শতাংশ।
এদিন ফল প্রকাশের পর মিরপুর সাড়ে ১১ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বনলতা সুইটস অ্যান্ড বেকারিতে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দোকানটির ক্যাশিয়ার আরাফাত জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুপুরের পর মিষ্টি বিক্রি বেড়েছে। বিকেলের পর আরও বাড়বে। মানুষ আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি পাঠাবে। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল মাথায় রেখে বাড়তি আয়োজন করা হয়েছে। বিকেলের পর মিষ্টি শেষও হয়ে যেতে পারে। মিষ্টির পাশাপাশি দই, আইসক্রিমের বিক্রিও ভালো।’
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোকান ঘুরে ঘুরে তারা ভালো মিষ্টি কেনার চেষ্টা করছেন। তবে অভিভাবকরা তাদের অফিস ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য বেশি দামের মিষ্টি কিনছেন।
কাজীপাড়ার বনফুল মিষ্টির দোকানে আসা উত্তীর্ণ এক শিক্ষার্থীর বাবা মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘মেয়ে মনিপুর স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। অফিস ও বাসার জন্য মিষ্টি কিনতে আসলাম। বাসার জন্য রসগোল্লা নিয়েছি ছয় কেজি। অফিসের জন্য তিন কেজি লাড্ডু নিয়েছি। লাড্ডুর দামটা একটু বেশি।’
দোকানভেদে প্রতি কেজি বালুসাই ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা, রসমালাই ৫০০-৬০০ টাকা, রসগোল্লা ও কালোজাম ৪২০-৪৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৪০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বাহারি নামের মিষ্টিন্ন পাওয়া যাচ্ছে। দোকানিরা বলেন, রসগোল্লা ও কালোজামের বিক্রি ভালো।
আরও পড়ুন
মিরপুর-১২ নম্বরের ‘মিঠাই’ মিষ্টির দোকানে এক শিক্ষার্থীর মা ফাহমিদা খাতুন বলেন, “আমার ছেলে ‘এ’ প্লাস পায়নি। তবে রেজাল্ট ভালো করেছে। প্রতিবেশীরা আগে থেকেই বলেছেন তাদের যেন মিষ্টিমুখ করাই। তাই মিষ্টি কিনতে আসলাম।”
মিরপুর বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থী যুবরাজ আদনান বলেন, সবার দোয়ায় ‘এ’ প্লাস পেয়েছি। এবার পরিবারের সদস্যদের জন্য মিষ্টি কিনতে এসেছি। তবে এখন শুধু বাসার জন্য মিষ্টি কিনবো। আগামীকাল আত্মীয়-স্বজনের জন্য কিনবো।
মিরপুর বনফুলের এক বিক্রয়কর্মী বলেন, ‘মিষ্টির বিক্রি ভালো। তবে আগের মতো হুড়োহুড়ি নেই। আগে দুপুরের পর মিষ্টি শেষ হয়ে যেতো। এখন মানুষ মিষ্টির পাশাপাশি ফল, আইসক্রিম কিংবা দই কিনে থাকে।’
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় গত ১২ মার্চ। ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৩ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এসএম/ইএ/জিকেএস