স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যুক্ত ছিলেন যারা

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১২ এএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২০

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র একটি অস্থায়ী বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র। যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের এবং অবরুদ্ধ এলাকার জনগণের মনোবল অক্ষুণ্ন রাখার ক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রতিদিনের সংবাদসহ যেসব অনুষ্ঠান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, তার মধ্যে ‘চরমপত্র’ ও ‘জল্লাদের দরবার’ অন্যতম। অধিবেশনের সূচনাসংগীত হিসেবে সম্প্রচার হতো ‘জয় বাংলা’ গানটি। এছাড়াও কোরআন তেলাওয়াত, বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা উদ্ধৃত ‘বজ্রকণ্ঠ’, রণাঙ্গনের সৈনিকদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান, সংবাদ, নানা ধরনের কথিকা, জীবন্তিকা, গান, কবিতা, নাটক, নেতৃবৃন্দের বক্তৃতা ইত্যাদি প্রচার হতো।

যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, তারা হলেন-

প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মী: প্রথম পর্যায়ে যে ১০ জন কর্মীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল, তারা হলেন-
১. বেলাল মোহাম্মদ- তৎকালীন চট্টগ্রাম বেতারের সম্প্রচারক
২. আবুল কাশেম সন্দ্বীপ- ফটিকছড়ি কলেজের তৎকালীন ভাইস প্রিন্সিপাল
৩. সৈয়দ আবদুস শাকের- চট্টগ্রাম বেতারের তৎকালীন বেতার প্রকৌশলী
৪. আবদুল্লাহ আল ফারুক- তৎকালীন অনুষ্ঠান প্রযোজক
৫. মোস্তফা আনোয়ার- তৎকালীন অনুষ্ঠান প্রযোজক
৬. রাশেদুল হোসেন- তৎকালীন কারিগরী সহকারী
৭. আমিনুর রহমান- তৎকালীন কারিগরী সহকারী
৮. শারফুজ্জামান- তৎকালীন কারিগরী পরিচালক
৯. রেজাউল করিম চৌধুরী- তৎকালীন কারিগরী পরিচালক
১০. কাজী হাবিবউদ্দিন আহমেদ মনি- বেতারকর্মী নন

এ বেতার কেন্দ্রের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বেলাল মোহাম্মদ। এ ছাড়াও এসব নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের প্রথম পর্যায়ে যারা সহায়তা করেছেন, তারা হচ্ছেন- ড. মোহাম্মদ শফি, বেগম মুশতারি শফি, মির্জা নাসিরউদ্দিন, আবদুল সোবহানসহ অনেকে।

jagonews24

অনুষ্ঠান বিভাগে ছিলেন-
১. শামসুল হুদা চৌধুরী- সিনিয়র অনুষ্ঠান সংগঠক
২. আশফাকুর রহমান খান- অনুষ্ঠান সংগঠক
৩. মেজবাহ উদ্দীন আহমদ- অনুষ্ঠান সংগঠক
৪. বেলাল মোহাম্মদ- অনুষ্ঠান সংগঠক
৫. টি এইচ শিকদার- অনুষ্ঠান প্রযোজক
৬. তাহের সুলতান- অনুষ্ঠান প্রযোজক
৭. মুস্তফা আনোয়ার- অনুষ্ঠান প্রযোজক
৮. আব্দুল্লাহ আল ফারুক- অনুষ্ঠান প্রযোজক
৯. মাহমুদ ফারুক- অনুষ্ঠান প্রযোজক
১০. আশরাফুল আলম- অনুষ্ঠান প্রযোজক (চুক্তিবদ্ধ)
১১. আলী যাকের- ইংরেজি অনুষ্ঠান প্রযোজক
১২. নজরুল ইসলাম অনু- অনুষ্ঠান প্রযোজক (জয়বাংলা পত্রিকায় কর্মরত)
১৩. কাজী হাবিব উদ্দীন আহমদ- উপ সম্পাদক (সংগীত বিভাগ)
১৪. শহীদুল ইসলাম- সংবাদ পাঠক, ঘোষক
১৫. আলী রেজা চৌধুরী- সংবাদ পাঠক, ঘোষক
১৬. মনজুর কাদের- সংবাদ পাঠক, ঘোষক
১৭. আবু ইউনুস- ঘোষক
১৮. মোতাহের হোসেন- ঘোষক
১৯. মোহাম্মদ মোহসিন রেজা- ঘোষক
২০. এ কে শামসুদ্দীন- প্রেজেন্টেশন সুপারভাইজার
২১. সমর দাশ- সংগীত পরিচালক
২২. সৈয়দ হাসান ইমাম- প্রযোজক (নাটক)
২৩. রণেশ কুশারী- প্রযোজক (নাটক)
২৪. সাদেকীন- স্ক্রিপ্ট লেখক
২৫. আবদুল তোয়াব খান- স্ক্রিপ্ট লেখক
২৬. মোস্তাফিজুর রহমান- স্ক্রিপ্ট লেখক
২৭. নাসীম চৌধুরী- স্ক্রিপ্ট লেখক
২৮. ফয়েজ আহমেদ- স্ক্রিপ্ট লেখক
২৯. বদরুল হাসান- স্ক্রিপ্ট লেখক
৩০. সাইফুর রহমান- রেকর্ডিং সুপারভাইজার (সংগীত)
৩১. মনতোষ দে- প্রযোজক
৩২. রঙ্গলাল দেব চৌধুরী- শিল্পী
৩৩. মফিজ আঙ্গুর- শিল্পী

প্রকৌশল বিভাগে ছিলেন-
১. সৈয়দ আবদুস শাকের- রেডিও প্রকৌশলী
২. রাশেদুল হোসেন- কারিগরী সহকারী
৩. আমিনুর রহমান- কারিগরী সহকারী
৪. মোমিনুল হক চৌধুরী- কারিগরী সহকারী
৫. প্রণব দে- কারিগরী পরিচালক
৬. রেজাউল করিম চৌধুরী- কারিগরী পরিচালক
৭. এম শারফুজ্জামান- কারিগরী পরিচালক
৮. হাবিবউল্লাহ চৌধুরী- কারিগরী পরিচালক

বার্তা বিভাগে ছিলেন-
১. কামাল লোহানী- সংবাদ ভারপ্রাপ্ত
২. মনসুর মামুন- উপ সম্পাদক
৩. আবুল কাশেম সন্দ্বীপ- উপ সম্পাদক
৪. সুব্রত বড়ুয়া- উপ সম্পাদক
৫. মৃণাল কুমার রায়- উপ সম্পাদক
৬. রণজিত পাল চৌধুরী- উপ সম্পাদক
৭. পারভীন হোসেন- সংবাদ পাঠক
৮. এজাজ হোসেন- নিরীক্ষণ
৯. রসূল আশরাফ চৌধুরী- নিরীক্ষণ
১০. জাহিদ সিদ্দিকী- উর্দু সংবাদ উপ-সম্পাদক
১১. শহীদুর রহমান- উর্দু সংবাদ উপ-সম্পাদক
১২. নুরুল ইসলাম সরকার- সংবাদ পাঠক

প্রশাসন বিভাগে ছিলেন-
১. অনিল কুমার মিত্র- অ্যাকাউন্টেন্ট
২. আশরাফ উদ্দীন- শ্রুতিলেখক
৩. কালীপদ রায়- মুদ্রাক্ষরিক
৪. মহীউদ্দীন আহমদ- অফিস সহকারী
৫. আনোয়ারুল আবেদীন- অফিস সহকারী
৬. এস এস সাজ্জাদ- স্টুডিও নির্বাহী ও অভ্যর্থক
৭. দুলাল রায়- অনুলিপিকার
৮. নওয়াব জামান চৌধুরী- অনুলিপিকার
৯. বরকত উল্লাহ- অনুলিপিকার
১০. একরামুল হক চৌধুরী- অনুলিপিকার

jagonews24

এ ছাড়া আরও ছিলেন-
গীতিকার: সিকান্দার আবু জাফর, আবদুল গাফফার চৌধুরী, নির্মলেন্দু গুণ, আসাদ চৌধুরী, টি এইচ শিকদার প্রমুখ।

শিল্পী: সমর দাস, আবদুল জব্বার, আপেল মাহমুদ, রথীন্দ্রনাথ রায়, অরুন গোস্বামী, মান্না হক, মাধুরী চ্যাটার্জী, এম চান্দ, ইয়ার মোহাম্মদ, প্রবাল চৌধুরী, কল্যাণী ঘোষ, উমা খান, নমিতা ঘোষ, স্বপ্না রায়, জয়ন্তী লালা, অজিত রায়, সুবল দাশ, কাদেরী কিবরিয়া, লাকি আখন্দ, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, মনোয়ার হোসেন খান, বুলবুল মহালনবীশ, ফকির আলমগীর, মকসুদ আলী সাই, তিমির নন্দী, মিতালী মুখার্জী, মলয় গাঙ্গুলী, রফিকুল আলম প্রমুখ।

সংগীত রচনা: প্রনোদিত বড়ুয়া।

যন্ত্র সংগীত: শেখ সাদী, সুজেয় শ্যাম, কালাচাঁদ ঘোষ, গোপী বল্লভ বিশ্বাস, হরেন্দ্র চন্দ্র লাহিড়ী, সুবল দত্ত, বাবুল দত্ত, অবীনাশ শীল, সুনীল গোস্বামী, তড়িৎ হোসেন খান, দিলীপ দাশ গুপ্ত, দিলীপ ঘোষ, জুলু খান, রুমু খান, বাসুদেব দাশ, সমীর চন্দ, শতদল সেন প্রমুখ।

ঘোষক: শেখ সাদী, শহিদুল ইসলাম, মোতাহের হোসেন, আশরাফুল আলম, অনিল কুমার, আবু ইউনুছ, জাহেদ সিদ্দিকী, মনজুর কাদের।

গ্রন্থাগারিক: রঙ্গলাল দেব চৌধুরী।

স্টুডিও কর্মকর্তা: এস এম সাজ্জাদ।

এ ছাড়া অনেকেই বিভিন্নভাবে যুক্ত ছিলেন। অনেকের নাম হয়তো এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি।

তথ্যসূত্র:
১. মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতারের ভূমিকা- কামাল লোহানী
২. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্মৃতি- বুলবুল মহলানবীশ
২. উইকিপিডিয়া
৩. ঢাকা জেলার ওয়েবসাইট

এসইউ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]