আজ চকলেট কেক খাওয়ার দিন

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:২২ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২২

ছোট বড় সবাই কমবেশি চকলেট কেক খেতে পছন্দ করেন। চকলেট আর কেকের মেলবন্ধনে আপনার রসনার স্বাদ আরও খানিকটা বাড়িয়ে দেবে। যে কোনো বিশেষ দিন সেটা হোক কারও জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী কিংবা প্রিয়মানুষের রাগ ভাঙানোর কৌশল। সবেতেই কেক এক অন্যতম উপকরণ সবার।

যে কোনো সেলিব্রেশন কেক ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ। তবে সেটা যদি হয় চকলেট কেক তাহলে তো কথাই নেই। নিজের ভাগেরটা উদ্ধার করতে কিছুটা যুদ্ধই করতে হবে আপনাকে। জানেন কি আজকের দিনটা কিন্তু মন ভরে চকলেট কেক খাওয়ার। কারণ আজ ২৭ জানুয়ারি চকলেট কেক দিবস।

আর কোনো অজুহাতের প্রয়োজন পড়বে না। ডায়েট শিকেয় তুলে রেখে চকলেট কেক খেতে থাকুন যত খুশি। তবে এই দিবস পালন শুরু হয় কবে, কে বা কারা শুরু করেছিল তার সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না। তবে চকলেট কেক প্রথম তৈরি হয়েছিল ১৭৬৫ সালে, মার্কিন মুলুকে।

সেসময় চকলেট খাওয়ার চল থাকলেও কেকের সঙ্গে এর সন্ধির কথা কেউ ভাবতেও পারেনি। তবে সেই ভাবনা প্রথম ভেবেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে ড. জেমস বেকার নামের এক ব্যক্তি। পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। একটি সংস্থার সঙ্গে মিলে তিনি তৈরি করেছিলেন এক ধরনে সিরাপ। সেটি আসলে ছিল কোকো গোলানো পানীয়।

আজ চকলেট কেক খাওয়ার দিন

এ থেকে বোঝা যায় চকলেট এখনকার মতো তখন বার ছিল না। ছিল পানীয়। সেই সিরাপকে ছাঁচে ফেলে বারের আঁকার দেন জেমস। সেটিকেই প্রথম চকলেট কেক হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। কেকের সঙ্গে মেশানো ছিল না তবে কেকের মতো কেটে খাওয়া হত সেই চকলেট। এজন্যই বিশ্বের প্রথম চকলেট কেক বলা হয়েছে একে।

সুস্বাদু চকলেট তৈরির পর কেকের সঙ্গে মেশানোর চিন্তা মাথায় আসে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের পিটর্সবার্গের দ্য ডাফ কোম্পানি প্রথম চকলেট কেকের সঙ্গে পরিচিত করে মানুষকে। তৈরি হয় ডেভিলের চকলেট কেক। দিন দিন আরও সুস্বাদু ও উন্নত চকলেট কেক তৈরির নতুন নতুন কৌশল বের হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মিলস কোম্পানির বেটিহ ক্রকা শুকনো ধরনের চকলেট কেক তৈরি করে। তাদের তৈরি কেক যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়। ১৯৯০ সালে তরল চকলেটের তৈরি কেক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের সাপ্তাহিক পত্রিকা ডোভার পোস্ট জানায়, জনপ্রিয় ফিলাডেলফিয়া কুকবুকের লেখক এলিজা লেসলি ১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দে দ্য লেডিস রেসিপ্ট বুকে চকলেট কেকের রেসিপি জানান। তবে এখনকার চকলেট কেকের তুলনায় সেটি ছিল একেবারেই নস্যি। সেটিকে বলা যেতে পারে চকলেটের টুকরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সারাহ টাইসন রোরার, মারিয়া পারলোয়ারের রেসিপিতে বানানো হয় সুস্বাদু, নরম চকলেট কেক। তারা কুকবুকের লেখক।

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও চকলেট কেক বেশ জনপ্রিয়। নতুন ধরনের চকলেট কেক বানানো হয় এখন। এগুলোর চাহিদাও অনেক। আগেকার চকলেট ও ক্রিম লেয়ারের কেকের বদলে এখন কোটেট, ড্রাই, প্লেন, ব্ল্যাক ফরেস্টসহ হরেক রকম কেক রয়েছে। বিভিন্ন চকলেট এখন বাংলাদেশে পাওয়া যায়। এগুলো দিয়েও নতুন ধরনের চকলেট কেক বানানো হয়। আবার চকলেট কেকের মধ্যেও আছে স্বাদ আর গন্ধের তারতম্য।

আজ চকলেট কেক খাওয়ার দিন

আমাদের দেশে ঘটা করে এই দিবস পালন করা হয় না। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিবস উপলক্ষ্যে নানান ধরনের আয়োজন করা হয়। আসলে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের তুলনায় এশিয়ায় চকলেট কেক দিবস উদ্যাপনের চল কম। সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার কারণেই এমনটা ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রে চকলেট কেক দিবস বেশি জমজমাট হয়। সেখানে চকলেট কেক দিবস উদ্যাপনে তারা একটাই কাজ করেন, তা হলো- খাওয়াদাওয়া আর মজা করা। চকলেট কেক দিবসে বন্ধু ও স্বজনের সঙ্গে কেক খাওয়া হয়। অনেকেই যান নিজের পছন্দের কেকের দোকানে। ভালো কেক তৈরির জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান।

চাইলে কেকের দোকানে নিজের কেকের রেসিপিও দেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের তৈরি চকলেট কেকের ছবি, চকলেট কেকের রেসিপি, চকলেট কেক খাওয়ার ছবি পোস্ট করা হয়। শুধু ছবি নয়, পোস্ট করা হয় সুস্বাদু চকলেট কেকের ভিডিও।

লেমন কেক, অরেঞ্জ কেক নতুন নতুন যত কেকই আসুক না কেন, চকলেট কেককে বলা যায় কেকের রাজা। যুক্তরাষ্ট্রের চকলেট কেকের পাশাপাশি জার্মান চকলেট কেকও যথেষ্ট জনপ্রিয়। এমনকি চিলির চকলেট কেকও যথেষ্ট সুস্বাদু। বিংশ শতাব্দীর শেষে ও একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে চকলেট কেক দিবস সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে ওঠে। আজ চকলেট কেক দিবসটি উদযাপন করতে পারেন আপনার পছন্দের চকলেট কেক কেটেই।

সূত্র: ডেইস অব দ্য ইয়ার/ন্যাশনাল টুডে

কেএসকে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]