নবান্ন বাঙালির প্রাণের সংস্কৃতি


প্রকাশিত: ০৮:২৩ এএম, ২০ নভেম্বর ২০১৬

বাঙালি জাতি বরাবরই সংস্কৃতি সমৃদ্ধ জাতি। সামাজিক লোকাচার পালনসহ বিভিন্ন অাচার-অনুষ্ঠান বাংলাদেশের এক সহজাত প্রবণতা। দেশীয় সংস্কৃতি উদযাপনে আমরা সবসময়ই উদার। তাই এখন অত্যন্ত সাড়ম্বরে নবান্ন উৎসব পালিত হয়।

সর্বস্তরের মানুষের অসাম্প্রদায়িক উৎসব হিসেবে নবান্ন উৎসব সমাদৃত। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে এটি ঐতিহ্যবাহী শস্যোৎসব। বাংলার কৃষিজীবী সমাজে শস্য উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব পালিত হয়, নবান্ন তার মধ্যে অন্যতম।  

নবান্ন কী
‘নবান্ন’ শব্দের অর্থ ‘নতুন অন্ন’। নবান্ন উৎসব হল- নতুন আমন ধান কাটার পর সেই ধান থেকে প্রস্তুত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব।  

কখন পালিত হয়
সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান পাকার পর এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোথাও মাঘ মাসেও নবান্ন উদযাপনের প্রথা রয়েছে।

নবান্নের প্রথাসমূহ
নবান্ন অনুষ্ঠানে নতুন অন্ন পিতৃপুরুষ, দেবতা, কাক ইত্যাদি প্রাণিকে উৎসর্গ করে এবং আত্মীয়-স্বজনকে পরিবেশন করার পর গৃহকর্তা ও পরিবারবর্গ নতুন গুড়সহ নতুন অন্ন গ্রহণ করেন।

কাকবলী
নতুন চালের তৈরি খাদ্যসামগ্রী কাককে নিবেদন করা একটি বিশেষ লৌকিক প্রথা। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কাকের মাধ্যমে ওই খাদ্য মৃতের আত্মার কাছে পৌঁছে যায়। এই নৈবেদ্যকে ‘কাকবলী’ বলে। অতীতে পৌষসংক্রান্তির দিনও গৃহদেবতাকে নবান্ন নিবেদন করার প্রথা ছিল।

নবান্ন উৎসব শুরু
১৯৯৮ সাল থেকে ঢাকা শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে নবান্ন উৎসব উদযাপন শুরু হয়। জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদ প্রতিবছর পহেলা অগ্রহায়ণে নবান্ন উৎসব উদযাপন করে। ইদানীং বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে আনুষ্ঠানিক নবান্ন উৎসব উদযাপিত হচ্ছে।

সবশেষে বলতে চাই- নবান্ন উৎসবে আমরা মাতবো, যুগে যুগে এমনই আমেজে আমরা ভাসবো। নতুন ফসলে ভরবে আঙিনা, কৃষকের মুখে ফুটবে হাসি। উৎসবে ভাসবে জাতি।

লেখক: শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

এসইউ/এমএস