আনন্দটা দেশের মতো হয় না : জমির হোসেন

মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান মুহাম্মদ ফরিদ হাসান , কবি ও কথাসাহিত্যিক
প্রকাশিত: ০২:৩৪ এএম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

প্রবাসী লেখক জমির হোসেন জনি থাকেন ইতালিতে। সেখানে থেকেই লেখালেখি ও সাংবাদিকতার চর্চা করেন। তিনি বাংলাদেশের একটি দৈনিকের ইতালি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি প্রবাসের ঈদ যাপন, আনন্দ-বেদনা, উদযাপন ও তার লেখালেখি নিয়ে কথা হয় জাগো নিউজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মদ ফরিদ হাসান।

জাগো নিউজ : কেমন আছেন?
জমির হোসেন : আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ ভালো রেখেছেন।

জাগো নিউজ : আজ বাংলাদেশে ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে। আপনার ঈদ কেমন কেটেছে?
জমির হোসেন : ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্য পবিত্র ঈদুল আজহা ১ সেপ্টেম্বর পালন করেছে। ঈদের প্রস্তুতি ভালোই ছিল। কিন্তু আনন্দটা দেশের মতো হয় না। কারণ আমরা প্রবাসে বরাবরই একা। এরমাঝে যতটুকু আনন্দ করা যায়, তাতে মন তৃপ্ত হয় না। যেন কিছু একটা বাদ রয়ে গেল। এছাড়া ইউরোপে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম জীবন যাত্রা। মধ্যপ্রাচ্য মুসলিম দেশ হওয়ায় এর আনন্দ কিছুটা অনুভব করা যায়। ইউরোপে তা নয়। ঈদ উপলক্ষে আমরা সরকারিভাবে কোনো বন্ধ পাই না। যার যার মতো বিশেষ এই দিনটাতে ছুটি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কারো ছুটি মেলে তো কারো মেলে না। নির্ভর করে কর্মস্থলের ওপর।

জাগো নিউজ : প্রবাসে ঈদের আনন্দ কেমন?
জমির হোসেন : প্রবাসে ঈদ আনন্দ সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। সব সময় একাকিত্ব। ফলে আনন্দ করার মত সব থাকার পরও যেন কিছুই নেই। বিশেষ করে ঈদের যে মূলভাব সেটা এখানে পরিলক্ষিত হয় না। তাই প্রবাসের ঈদ মা-মাটিবিহীন ঈদ।

জাগো নিউজ : ঈদের সময় বাংলাদেশকে কীভাবে অনুভব করেন?
জমির হোসেন : যেন মাটি আর আকাশের মাঝখানে বসে আছি। অপেক্ষা করি আকাশ-মাটি কবে কাছাকাছি হবে। কিন্তু সচ্ছলতার স্বপ্ন পূরণ না হলে এই দূরত্ব কখনই ঘোচাবার নয়। এরই মাঝে জীবন কৃত্রিম আনন্দে মেতে উঠতে চেষ্টা করে।

jamir

জাগো নিউজ : ঈদ উপলক্ষে কি কোনো কিছু লেখা হয়?
জমির হোসেন : ঈদ উপলক্ষে সবসময় লেখি। ভাবি আজ ব্যস্ত কাল হয়তো একটু সময় হবে লেখার। কিন্তু দিন যতোই যায় ব্যস্ততার চাকা আরও বেশি ঘুরতে থাকে। এভাবে লেখার যে ধারাবাহিকতা সেটা ধরে রাখতে পারি না। তবে আফসোস থেকে যায় যখন কোন লেখায় অনুপস্থিত হই।

জাগো নিউজ : প্রবাস ও সাহিত্য- একটি আরেকটির কতটা প্রতিবন্ধক?
জমির হোসেন : চরম প্রতিবন্ধকতা রয়েছে উভয়ের মাঝে। প্রবাস মানে প্রতি সেকেন্ডের মূল্য দেওয়া। ফলে সময়কে অবহেলা করা হলে জীবনে প্রতিষ্ঠার ন্যূনতম অবস্থান থেকে নিজেকে পিছিয়ে রাখা হলো। তবে ক্ষেত্রবিশেষ উভয়দিকে ভালো করা সম্ভব, সেটা খুবই নগণ্য। একটি কথা না বললেই নয়, মিডিয়াতে কাজ করার পর এমন একটি অভ্যাস হয়- একবার লেখার সাধ মনে পেয়ে বসলে কখনই এ থেকে দূরে পালানো সম্ভব নয়। যদিও চেষ্টা অনেক।

জাগো নিউজ : সাহিত্যিকের সামাজিক দায় আছে কি?
জমির হোসেন : মানুষ এবং সাহিত্য দুটি মেরুতে সমাজ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান। তবে দুটি সত্তা একটি আরেকটির পরিপূরক এবং অনেকটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্যাপারটি এমন মানুষ স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ জীব। আর সাহিত্য মানুষের সৃষ্টি যা সমাজকে পরিবর্তন করতে বিরাট ভূমিকা রাখে। সমাজকে কলুষমুক্ত করতে সাহিত্যের বিকল্প নেই। সমগ্র ইউরোপে সাহিত্যমনাদের বিশেষ সম্মান দেয়। কেনননা মানুষই পারে সাহিত্যকে সমাজের পরতে পরতে স্থান করে দিতে। এরআগে নিজের লোভ-লালসাকে সংকীর্ণ করতে হবে।

এসইউ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :