টানা দ্বিতীয় দিনে আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, অভিযোগ অস্বীকার তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৭ এএম, ০৬ মে ২০২৬
সাম্প্রতিক যুদ্ধে আমিরাতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান/ ছবি: এএফপি (ফাইল)

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। তবে ইরান এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে তারা ইউএই-এর বিরুদ্ধে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালায়নি। এমন কোনো অভিযান চালানো হলে তা স্পষ্টভাবে জানানো হতো বলেও দাবি করা হয়।

ইউএই-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবারের (৪ মে) হামলার আগের দিনও হামলায় অন্তত তিনজন আহত হন। এছাড়া ফুজাইরাহ-তে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলায় আগুন লাগে। সর্বশেষ হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এই উত্তেজনা এমন সময় বাড়ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেছে, যার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। বিশ্ব জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে এবং তেল-গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে।

এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে, যা তেহরানের তেল রপ্তানি ও আমদানি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে।

তবে সাম্প্রতিক গোলাগুলির পরও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেনি। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপ সাময়িক এবং তারা ইরানের জলসীমা বা আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি।

এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির আগে পাঁচ সপ্তাহে আমিরাতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়, যা উপসাগরীয় অঞ্চল বা ইসরায়েলের তুলনায় সর্বোচ্চ।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।