আনন্দবাজার গোষ্ঠির সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের উদ্যোগ মমতার
অবশেষে ভারতের আনন্দবাজার গোষ্ঠির সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে উদ্যোগী হল ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার সন্ধ্যায় ক্যালকাটা ক্লাবে এবিপি গোষ্ঠির অন্যতম ইংরেজি দৈনিক টেলিগ্রাফের বিতর্কসভা অনুষ্ঠিত হয়। আর সেই বিতর্কসভায় বক্তাদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য নাম ছিল তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যেপাধ্যায়ের।
রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অভিষেককেই টেলিগ্রাফ বিতর্কসভায় পাঠিয়ে এবিপি সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক ফেরাতে উদ্যোগী হলেন মমতা।
কিছুদিন ধরেই তৃণমূলের সদ্য প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়ের সঙ্গে আনন্দবাজার সংস্থার প্রধান সম্পাদক অভীক সরকারের সম্পর্ক গভীর হয়েছিল। সূত্রের খবর, বিভিন্ন সভায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আনন্দবাজার সংস্থার বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন, ঠিক সেই সময় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা মুকুল রায় অভীক সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সারদাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে দলনেত্রীর সঙ্গে সম্পকের্র অবনতি হয়েছে মুকুল রায়ের। এরপরেই রাজ্য এবং দেশের অন্যতম প্রভাবশালী মিডিয়া সংস্থা এবিপির সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে উদ্যোগী হন খোদ মমতা। সেই প্রেক্ষিতেই টেলিগ্রাফ বিতর্কসভায় অভিষেককে পাঠানো হয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত।
এ দিন বিতর্কের দ্বিতীয় বক্তা হিসেবে অভিষেক দাবি করেন যে কখনই নিজেদেরকে কোনও এলাকার বলে দাবি করা যায় না। বলা হয়, ``আমি ভারত থেকে এসেছি।`` প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে যিনিই আসীন থাকুন না কেন, সবার আসল পরিচয় যে তিনি একজন ভারতীয়। এমনটাই দাবি করেন তিনি।
এছাড়াও তিনি বলেন, দেশের কেন্দ্র সরকার কোনও একটি বিশেষ রাজ্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারে না, হওয়া উচিতও নয়। যেহেতু ভারতীয় ভূ-খণ্ডে বসবাসকারী সবাই ভারতীয় বলেই পরিচিত, তাই সব রাজ্যের প্রতিই সমান মনোভাব নিয়ে চলা উচিত। সব রাজ্যের ক্ষেত্রেই প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কথাও। প্রসঙ্গক্রমে টেনে আনেন লালবাহাদুর শাস্ত্রী, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে।
অভিষেক বলেন, ``লালবাহাদুর শাস্ত্রী, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, রাজ্যের হয়ে নয়। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস উড়িষ্যায় জন্মালেও তাঁর জন্মজয়ন্তী পালিত হয় গুলমার্গেও।``
একই সঙ্গে তিনি এটাও জানান, কোনও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, প্রাক্তন রেলমন্ত্রী যদি বিদেশ সফরে যান, তাহলে তাঁর পরিচয় থাকে ভারতের প্রাক্তন মন্ত্রী হিসেবেই। সুতরাং রাজ্যের জন্য রাজনীতি নয়, ভারতীয়ত্বই শেষ কথা বলে স্পষ্টই বুঝিয়ে দেন তিনি।
টেলিগ্রাফের এ দিনের বিতর্কের বিষয় ছিল, `রাজ্যের জন্য রাজনীতি, রাষ্ট্রের জন্য নয়`। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও এই বিতর্কে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতন রাম মাজি, রাজ্যে বিজেপির ভারপ্রাপ্ত নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিংহ, কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ সঞ্জয় নিরুপম ও অজয় মাকেন।
এসআরজে