বাবা-মা ছাড়াই বাংলাদেশে ১৩০০ রোহিঙ্গা শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:১৯ এএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচতে প্রায় ১ হাজার ৩শ রোহিঙ্গা শিশুকে এ পর্যন্ত চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা বাবা-মা বা কোনও আত্মীয় স্বজন ছাড়াই বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। খবর বিবিসি।

সাহায্য সংস্থাগুলো ধারণা করছে এসব শিশুর বাবা-মার দু’জনকেই অথবা বাবাকে বা মাকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হত্যা করেছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভয়াবহ নিপীড়নের মুখে আগস্টের শেষ দিক থেকে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনারের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিনই গড়ে দশ থেকে পনের হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে। এদের একটা বড় অংশই শিশু।

জাতিসংঘ বলছে, তাদের সঙ্গে কক্সবাজারে কাজ করছে এমন সাহায্য সংস্থাগুলোর হিসাবে এখন পর্যন্ত এক হাজার তিনশোর বেশি শিশুকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা বাংলাদেশে এসেছে বাবা-মা বা আত্মীয় স্বজন ছাড়াই।

child-2

ইউনিসেফের কর্মকর্তা মাধুরী ব্যানার্জি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১৩১২ জন শিশুকে পাওয়া গেছে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অর্থাৎ বাবা-মা বা কোনো স্বজন ছাড়াই। তাদের সহায়তার চেষ্টা করছি আমরা। মানসিক বা ট্রমা থেকে তারা যেন বেরিয়ে এসে স্বাভাবিক হতে পারে সে চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইউনিসেফের এই কর্মকর্তা বলছেন, এসব শিশুরা নিজের পরিবার বা পরিচিত না হলেও কোনও না কোনও পরিবারের সঙ্গেই বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাই সেখানে রেখেই তাদের সহায়তার চেষ্টা করছেন তারা।

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে একজন মোহাম্মদ নুর। তিনি অনেক আগেই বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি বলছেন, এসব শিশুদের বাবা মাকে মিয়ানমারের সেনারা মেরে ফেলেছে।

child-2

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী এ দফায় নতুন করে আসা শিশু সংখ্যা দু’লাখেরও বেশি।

স্থানীয় একটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল আবছার চৌধুরী বলেছেন, তার ধারণা যত শিশু এসেছে তার প্রায় অর্ধেকের সঙ্গেই তাদের বাবা নেই।

তিনি বলেন, অন্তত ৪০ শতাংশ আসছে অভিভাবক ছাড়া। তবে কেউ কেউ আসছে শুধু মা বা দাদির সঙ্গে। কক্সবাজারে রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা সেলিম মাহমুদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা নারীদের অনেকেই তাদের জানিয়েছেন যে তারা তাদের সঙ্গে এমন অনেক শিশুকে এনেছেন যাদের পরিবারের সদস্যদের তারা খুঁজে পাননি।

সাহায্য সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, এই দফায় পরিবার ছাড়া অন্যদের সঙ্গে আসা এমন অনেক শিশুকে পাওয়া গেছে যাদের বয়স মাত্র তিন কিংবা চার বছরের মধ্যে। সঙ্গত কারণেই এসব শিশুদের অভিভাবকদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এই শিশুরা কিংবা তারা যাদের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছে তারাও ঠিক মতো বলতে পারছেন না।

টিটিএন/জেআইএম

টাইমলাইন  

আপনার মতামত লিখুন :