মাত্র ৫ টাকার জন্য খুন, ৮ বছর পর আসামির মৃত্যুদণ্ড দিলেন আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৫৫ এএম, ০১ এপ্রিল ২০২৬
৮ বছর আগের হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড, ফাইল ছবি

মাত্র ৫ টাকার জন্য খুন হয়েছিলেন রাজধানীর ইন্দিরা রোডের একটি বাড়ির কেয়ারটেকার। ৮ বছর আগের সেই হত্যাকাণ্ডের রায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঘোষণা করেন ঢাকার ১১তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম। মামলার একমাত্র আসামি মো. কাজলকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় কাজলকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় পড়া শেষে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত কাজল নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া গ্রামের ফজর আলীর ছেলে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুকুল ইসলাম দেওয়ান জানান, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার দরিচর গ্রামের বাসিন্দা জুলহাস মিয়া দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ঢাকার ইন্দিরা রোডের ২৫/বি নম্বর বাসায় কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৮ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি সিমেন্টের দোকানের সামনে তার কাছে ৫ টাকা চান আসামি কাজল। টাকা দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে কাজল ক্ষিপ্ত হয়ে তার সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে জুলহাস মিয়াকে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি রাস্তায় পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার দিনই নিহত জুলহাস মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় কাজলকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরদিন তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে একই বছরের ৯ জুন শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুজানুল ইসলাম কাজলকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তী সময় ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

বিচার চলাকালে ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আত্মপক্ষ সমর্থন ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত কাজলকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দিলেন।

এমডিএএ/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।