লক্ষ্মীপুরের ওসি ও ইউপি চেয়ারম্যান হাইকোর্টে হাজির


প্রকাশিত: ১২:৪৬ পিএম, ০৩ জুলাই ২০১৭

মাটি কাটা শ্রমিক নূরুল আমিনকে (৫২) গ্রাম্য সালিসে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত ও নাকে খত দিতে বাধ্য করার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়েছেন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তার হোসেন ও দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির রিপন।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও এ কে এম সাহিদুল হকের বেঞ্চে তারা স্ব-শরীরে হাজির হন। আদালত আগামী রবিবার ফের শুনানির দিন ধার্য করে ইউপি চেয়ারম্যান এবং ওসিকে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেন।

এছাড়া এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, আদালতকে তা অবগত না করায় আগামী রবিবার লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

রিটকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তাছেব হোসাইন বলেন, শুনানির সময় আদালত ইউপি চেয়ারম্যান ও ওসিকে ভৎসনা করেছেন। পুলিশ বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ধারা উল্লেখ না করে ওসি যথাযথ দায়িত্ব পালন করেননি। এতে ইউপি চেয়ারম্যানকে সুবিধা দেয়া হয়েছে, এ বিষয়েও আদালত ওসিকে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন।

প্রসঙ্গত, গ্রাম্য আদালতে ইউপি চেয়ারম্যানের ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করার বিধান থাকলেও শ্রমিক নূরুল আমিনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছিল, যা চাঁদাবাজির শামিল। গত ২১ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তাছেব হোসাইনের করা জনস্বার্থে রিট মামলার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিশ্বদেব চক্রবর্তীর দ্বৈত অবকাশকালীন বেঞ্চ তাদের বিরুদ্ধে এ রুল জারি করে।

গত ১৮ জুন জাগোনিউজে এ কেমন বিচার! শিরোনামেসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি জনস্বার্থে আদালতের নজরে এনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তাছেব হোসাইন রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত এ রুল জারি করেন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আহসানুল কবির রিপন ২৮ মে গ্রাম্য সালিসে শ্রমিক নূরুল আমিনকে বাড়ি থেকে ধরে এনে প্রকাশ্যে নাকে খত দিতে বাধ্য করেন। এ সময় তার (চেয়ারম্যান) নির্দেশে গ্রামপুলিশ জাহাঙ্গীর আলম ওই শ্রমিককে ১১টি বেত্রাঘাত করে। অভিযোগকারী শহীদ ও তার স্ত্রীর পায়ে ধরে দু’দফায় ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পাননি তিনি।

শহীদ নামে আরেক মাটি কাটা শ্রমিকের সঙ্গে বিবাদকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করলে তিনি ইউনিয়নের বড় আউলিয়া গ্রামে সালিসের আয়োজন করেন। সালিসের দুইদিন পর নুরুল আমিনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

সালিসে স্থানীয় এক ব্যক্তির গোপনে ধারণ করা এক মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের নির্যাতনের ভিডিওটি ১৬ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ২১ জুন চন্দ্রগঞ্জ থানার দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শিপন বড়ুয়া বাদী হয়ে চেয়ারম্যান আহসানুল কবির রিপনসহ ৭ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। রাতেই মামলার আসামি গ্রামপুলিশ জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করা হয়।

কাজল কায়েস/ওআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।