খালেদার সাজা বাড়ানোর আবেদন গ্রহণযোগ্যতার শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৯ এএম, ২৮ মার্চ ২০১৮
ফাইল ছবি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার সাজার মেয়াদ ৫ বছর থেকে বাড়ানোর জন্য করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদন গ্রহণ যোগ্যতার শুনানি আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এ আবেদন গ্রহণযোগ্যতার শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন দুদক আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এর পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। এর বিষয়টির গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানির জন্য বুধাবার দিন ঠিক করেন আদালত। আদালত বলেছেন, (বুধবার) বিষয়টি কার্যতালিকায় থাকবে।

হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে বিষয়টি উপস্থাপন করেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সহযোগী আসামিদের ১০ বছরের সাজা অথচ মূল আসামি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন দুদক আইনজীবীরা। সেই সঙ্গে গত ২৫ মার্চ রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দুদকের পক্ষে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়নোর আপিল আবেদন করেন দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদআলম খান।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জাগো নিউজকে বলেছেন, আজ আবেদনটি কার্যতালিকার ১৮ নম্বরে রয়েছে। আশা করি শুনানি হবে।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম এবংতারেক রহমানসহ পাঁচজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ছয় আসামির সবাইকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এরপর থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।

দুদকের আইনজীবীর মতে, ওই মামলার মূল আসামি খালেদা জিয়া। তাকে বিচারিক আদালত পাঁচ বছর সাজা দিয়েছেন। আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জাগো নিউজকে বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজাদেন বিচারিক আদালত। দুদক মনে করে, খালেদা জিয়া মূল আসামি অথচতার চেয়ে সহযোগীদের বেশি সাজা দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার এ সাজাঅপর্যাপ্ত। তার সাজার অংশটুকু আমরা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি আবেদন করেছি।

তিনি বলেন, ‘এ মামলার মূল আসামি খালেদা জিয়া। তাকে আদালত পাঁচবছর সাজা দিয়েছেন অথচ তার সহযোগী অপরাধীদের ১০ বছরের সাজাদেয়া হয়েছে। বিচারিক আদালত যদি সবাইকে ১০ বছরের সাজা দিত অথবা সবাইকে পাঁচ বছরের সাজা দিত তাহলে আমরা আবেদন করতাম না। যদি খালেদা জিয়াকেও ১০ বছরের সাজা দিত তাহলেও কোনো আবেদন করতাম না। সহযোগীদের সাজা কম হতে পারত। এটিকেও আমরা আপিলে গ্রাউন্ড হিসেবে দেখিয়েছি।’

বয়স ও সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে খালেদা জিয়াকে দেওয়া পাঁচ বছর কারাদণ্ড আইনে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার ১ মাস ১৭ দিনের মাথায় গতরোববার দুপুরে দুদক হাইকোর্টে এই আবেদন করা।
খালেদা জিয়াকে তো বেশকিছু যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে বিচারিক আদালতসাজা দিয়েছিলেন- এ বিষয়ে খুরশীদ আলম খানের বক্তব্য হলো, ‘আপিল আবেদনে বিচারিক আদালতের সেই গ্রাউন্ডগুলোকেই চ্যালেঞ্জ করেছি। ওই গ্রাউন্ডে অপর্যাপ্ত সাজা দেয়া যায় না। আইন এটা অনুমোদন করে না।’

আপনারা আপিলে কী পরিমাণ সাজা প্রার্থনা করেছেন- জানতে চাইলে খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘নির্দিষ্ট পরিমাণ সাজা চেয়ে আবেদন করিনি। তবে অপর্যাপ্ত সাজা হওয়ায় বিরুদ্ধে আবেদন করেছি। এটা যখন শুনানি হবে, তখন দেখা যাবে একটি আইনে যতগুলো সাজা থাকে আদালত চাইলে তার বেশি বা কমও সাজা প্রদান করতে পারেন। অথবা খালাস ও দিতে পারেন। এটা মামলার বিষয়বস্তু ও ঘটনার উপর নির্ভর করবে।’

বিএনপির আইনজীবীরা আপিল আবেদনটি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন- এর উত্তরে দুদকের এ আইনজীবী বলেন, ‘দুদক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপিল করেছে। এটা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই। এখন আমাদের বক্তব্য হলো, এটা ধোপে টিকবে কিনা, তা আদালত দেখবেন।’

এফএইচ/আরএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :