রাজীবের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫৩ এএম, ০৮ মে ২০১৮

রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হাসানের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, এক মাসের মধ্যে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনকে ক্ষতিপূরণের অর্ধেক (৫০ লাখ) টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া রাজীবের খালা জাহানার পারভীন এবং রাজীবের গ্রামের বাড়ি বাউফলের সাবেক চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদের ছেলে কাস্টমস কর্মকর্তা ওমর ফারুকের নামে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় একটি যৌথ অ্যাকাউন্ট খুলতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল এবং পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ জুন শুনানির দিন ঠিক করেন আদালত।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানি করেন। অন্যদিকে, বিআরটিসির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো.মনিরুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, অরবিন্দ কুমার রায়।

আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, দুই বাসের পাল্লায় না ফেরার দেশে চলে যাওয়া কলেজছাত্র রাজীবের দুই ভাইকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বিআরটিসি এবং স্বজন পরিবহনের মালিককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওই এক কোটি টাকার অর্ধেক, অর্থাৎ ৫০ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য দুই পরিবহনের মালিককে এক মাসের সময় দিয়েছে আদালত।

তিনি জানান, রাজীবের খালা জাহানার পারভীন এবং রাজীবের গ্রামের বাড়ি বাউফলের সাবেক চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদের ছেলে কাস্টমস কর্মকর্তা ওমর ফারুকের নামে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় একটি যৌথ অ্যাকাউন্ট খোলা হবে।

বিআরটিসি এবং স্বজন পরিবহনের মালিককে এক মাসের মধ্যে ২৫ লাখ টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকা জমা দিতে হবে ওই অ্যাকাউন্টে। আর টাকা জমা দেয়ার বিষয়টি ২৫ জুনের মধ্যে আদালতকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ২৫ জুন বিষয়টি আবার আদালতে এলে তখনই বাকি ৫০ লাখ টাকার বিষয়ে নির্দেশনা দিতে পারে আদালত।

গত ৩ এপ্রিল কারওয়ান বাজারে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের রেষারেষিতে বিআরটিসির যাত্রী রাজীবের ডান কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার মাথার সামনে-পেছনের হাড় ভেঙে যাওয়া ছাড়াও মস্তিষ্কের সামনের দিকে আঘাত লাগে।

১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৭ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তিতুমীর কলেজের এই শিক্ষার্থীর।

এফএইচ/এনএফ/জেএইচ/জেআইএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]