জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা : কাজী কামালের ‘জামিন হয়নি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৪ পিএম, ২৩ মে ২০১৮
ছবি-ফাইল

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিচারিক আদালতে ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে কাজী কামালের জামিন আবেদন ৩১ জুলাই পযন্ত স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) করেছেন হাইকোর্ট।

জামিন সংক্রান্ত আবেদনের শুনানির নিয়ে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে কাজী কামালের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন তার আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

পরে খুরশীদ আলম খান বলেন, আদালত তার আবেদন ৩১ জুলাই পযন্ত স্ট্যান্ডওভার রেখেছেন। এর অর্থ তিনি জামিন পাননি। কারণ ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এ মামলার আপিল নিষ্পত্তি করতে সময় বেধে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

তিনি বলেন, জামিন আবেদনে তার আইনজীবীরা বলেছেন কাজী কামালের একটি সামাজিক মযাদা আছে। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য। একটি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানও ছিলেন। তার আবেদন মঞ্জুর করা হোক। জবাবে বলেছি- যারা এতিমের টাকা মেরে দণ্ডিত হয়, তাদের আবার কিসের সামাজিক মযাদা? আপিল বিভাগ ৩১ জুলাই সময় বেধে দিয়েছেন। সে পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করুন। দণ্ড বহালও থাকতে পারে আবার তিনি খালাসও পেতে পারেন। এরপর আদালত তার জামিন আবেদন ৩১ জুলাই পযন্ত স্ট্যান্ডওভার রেখেছেন।

এ মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের মধ্যে কারাবন্দি তিনজনেরই আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। আদালত এই তিন আসামির আপিল শুনানি এবং খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে জারি করা রুলের শুনানি একইসঙ্গে নিবেন।

খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি দুজন হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে কাজী কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।

পলাতক তিনজন হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান মামলাটিতে খালেদা জিয়ার ৫ বছর কারাদণ্ড দেন।

একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।

রায় ঘোষণার ১১দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রায়ের সার্টিফায়েড কপি বা অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি এ আবেদন দায়ের করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ এবং অর্থদণ্ড স্থগিত করে নথি তলব করেন।

এরপর ৭ মার্চ অপর আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালের আপিলও শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। ১০ মে আরেক আসামি শরফুদ্দিনের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

এদিকে খালেদা জিয়া আপিলের পর জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন। হাইকোর্ট তাকে জামিন দিলেও দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরুদ্ধে আপিল করে। কিন্তু আপিল বিভাগ তার জামিন বহাল রেখে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে আদেশ দেন।

এফএইচ/এমবিআর/জেআইএম