বকশীগঞ্জ পৌর নির্বাচনের ফল প্রকাশে বাধা নেই
জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌর নির্বাচনের (মালিরচর হাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) কেন্দ্রের ভোট গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ এবং ফলাফল ঘোষণায় আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী শেখ জাহাঙ্গীর আলম।
এ সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।
আদালতে মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম সওদাগরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ জাহাঙ্গীর আলম। অন্যদিকে শাহিনার পক্ষে ছিলেন আডভোকেট বাসেত মজুমদার, আব্দুল মতিন খসরু ও নুরুল ইসলাম সুজন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌহিদুর রহমান।
এর আগে ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ১২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের দিন ১১টি কেন্দ্র নিয়ে কোনো প্রশ্ন না তুললেও একটি ভোট কেন্দ্রে অনিয়ম করা হয়েছে বলে ভোটগ্রহণ এবং ফলাফল ঘোষণা বন্ধ রাখা হয়। এরপর পৌর নির্বাচনে ৩য় স্থান অধিকারী সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহিনা বেগম ৭টি কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে নির্বাচন স্থগিতসহ রুল জারি করেন আদালত। আজ ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করেন আদালত।
এখন রুল নিষ্পত্তির ফলে মালিরচর হাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ করতে এবং ফলাফল ঘোষণা করতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
২০১৩ সালে বকশীগঞ্জক পৌরসভায় রূপান্তর হয়। পরে সীমানা নির্ধারণের জটিলতা নিয়ে প্রায় ৫ বছর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এরপর ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
তবে, মালিরচর হাজীপাড়া কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ১২৮ জন। বকশীগঞ্জ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ হাজার ৫৯১ জন।
১১টি কেন্দ্রের ফলাফলে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক (স্বতন্ত্র প্রার্থী) নজরুল ইসলাম সওদাগর জগ প্রতীক নিয়ে ৮৫৯৯ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ফখরুজ্জামান মতিন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পান ৭ হাজার ৭০৫ ভোট। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহিনা বেগম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৫ হাজার ১৬০ ভোট পেয়ে ৩য় স্থান অর্জন করেন।
অপর তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন তালুকদার বাহাদুর নারিকেল গাছ নিয়ে ৮৩৩, নুরুজ্জামান মোবাইল প্রতীক নিয়ে ৪৯৬ ও সোলায়মান হক কম্পিউটার প্রতীক নিয়ে পান ১৩১ ভোট।
এফএইচ/এনডিএস/জেআইএম