জাহালম : দুদকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৯ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৯

নিরীহ জাহালমের কারাভোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন তলব করেছেন হাইকোর্ট।

জাহালমের কি অবস্থা তা জানার জন্য নির্ধারিত দিনে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। জাহালমের পক্ষে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত।

জাহালমের পক্ষে রিটকারী আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত বলেন, নিরীহ জাহালমের তিন বছর কারাভোগ নিয়ে দুদক অভ্যন্তরীণ একটি তদন্ত করছে। আদালত দুদকের সেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, জাহালমের কারাভোগ সংক্রান্ত আবেদনের ওপর শুনানির দিন ছিল আজ। তবে, এ-সংক্রান্ত মামলার মূল নথি আরেকটি হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে এ আদালতে এসে পৌঁছায়নি। ২ মে পরবর্তী শুনানির নতুন তারিখ ঠিক করেছেন আদালত।

এর আগে গত সপ্তাহে আদালত জাহালমকে হাজির করতে বলেছিলেন। জাহালম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ উপস্থিত ছিলেন।

গত ৬ মার্চ হাইকোর্ট সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতিসংক্রান্ত ৩৩টি মামলার সব কাগজপত্র দুদককে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

আদালত সেদিন বলেছিলেন, ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় কতজন ব্যাংক অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে? আমরা সব দেখব। দুদক যখন জানতে পারল জাহালম নির্দোষ তখন তার জামিন করানো উচিত ছিল। আদালতের আদেশের পর গত ১০ এপ্রিল দুদক ৩৩টি মামলার মধ্যে একটি মামলার কাগজপত্র আদালতে জমা দিয়েছেন।

আজ দুদকের পক্ষ থেকে বাকি মামলার কাগজপত্র জমা দেয়া হয়নি বলে জানান অমিত দাশ গুপ্ত।

গত ৩০ জানুয়ারি প্রথম আলোয় ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সেদিন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত। শুনানি নিয়ে আদালত জাহালমের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বপ্রণোদিত রুল জারি করেছিলেন। একইসঙ্গে, নিরপরাধ জাহালমের গ্রেফতারের ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র সচিবের প্রতিনিধি ও আইন সচিবের প্রতিনিধিকে ৩ ফেব্রুয়ারি সশরীরে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এরই ধারাবাহিকতায় সেদিন দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি হিসেবে দুদকের মহাপরিচালক (তদন্ত), মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাহিদ, স্বরাষ্ট্র সচিবের (সুরক্ষা) প্রতিনিধি যুগ্ম সচিব সৈয়দ বেলাল হোসেন এবং আইন সচিবের প্রতিনিধি সৈয়দ মুশফিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হন। আর সেদিনই শুনানি নিয়ে জাহালমকে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এফএইচ/জেএইচ/এমএস